এক দশক আগে আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন বিদেশি রেফারিদের অনৈতিক 'যৌন সেবা' ও বিনোদন প্রদানের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছে কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। ২০১৬ সালের একটি সরকারি অডিট রিপোর্ট সম্প্রতি ফাঁস হওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের মুখে পড়ে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় কেএফএ।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসা ২০১৬ সালের সরকারি অডিট প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় যে, ২০১১ সালের মার্চ থেকে ২০১২ সালের মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচের সময় কেএফএ-এর করপোরেট ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা হয়েছিল।
সিউলসহ আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনকারী শহরগুলোর বিভিন্ন ম্যাসাজ পার্লার ও প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদনকেন্দ্রে বিদেশি রেফারিদের জন্য অর্থ প্রদান করা হয়। আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার (ফিফা) নীতিমালা অনুযায়ী রেফারিদের কোনো ধরনের আর্থিক বা অনৈতিক সুবিধা প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার আইনেও পতিতা বৃত্তিমূলক সেবা গ্রহণ দণ্ডনীয় অপরাধ।
বিতর্ক চরম আকার ধারণ করলে কেএফএ এক বিবৃতিতে জানায়, "২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের পর থেকে অ্যাসোসিয়েশনকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা বিতর্ক ও আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি। সংসদীয় শুনানির সম্মুখীন হওয়া, নজিরবিহীন পুলিশি অভিযান এবং এক দশক আগের ঘটনা—যা সংস্থার ভেতরের অনেক সদস্যের কাছেও অজানা ছিল—সেগুলো প্রকাশিত হওয়ায় আমরা গভীরভাবে দুঃখিত। সর্বস্তরের সমালোচনাকে হৃদয়ে ধারণ করে আমরা ব্যাপক সংস্কারের সুযোগ হিসেবে এটিকে গ্রহণ করব।"
পুলিশি অভিযান ও দ্বিমুখী সংকট
এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবরের পাশাপাশি বর্তমানে চরম আইনি ও রাজনৈতিক চাপে রয়েছে কেএফএ:
- জাতীয় দলের সাবেক কোচ হং মিউং-বো-কে পুনরায় নিয়োগ দেওয়ার সময় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে গত বৃহস্পতিবার কেএফএ-এর কার্যালয়ে তল্লাশি চালিয়েছে সিউল পুলিশ।
- কেএফএ-এর সাবেক প্রধান চাং মং-গিউ সহ দায়িত্বশীল কর্তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্যায্য হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে।