গল্প

মহাপ্রলয়ের পরে

ঘুম থেকে উঠে প্রথমে বুঝতে পারলাম না, কোথায় আছি। প্রতিবার ঘুম ভাঙার পরই এমন হয়। মনে হয় মহাপ্রলয় ঘটে গেছে আর প্রলয়ের পর বেঁচে থাকা গুটিকয় মানুষের মধ্যে আমি একজন। বহুকাল ধরেই ঘুম ভাঙার পর একটা অবসাদে আক্রান্ত হই, অনেক হাতড়েও বেঁচে থাকার কোনো অর্থ খুঁজে পাই না। এতটা অর্থহীন জীবন নিয়ে এখনো কীভাবে টিকে আছি তা ভেবে বেশ অবাকই লাগে। মাঝে মাঝে মনে হয় বেঁচে থাকার অর্থ কী, এই ভাবনাটাই সম্ভবত এখন আমার জীবনের একমাত্র অর্থপূর্ণ কাজ। কোনো একদিন এই অর্থটা হঠাৎ খুঁজে পেয়ে গেলে, এরপর বেঁচে থাকার আর কোনো মানে থাকবে না। 

ঘুম থেকে উঠে প্রথমে বিড়ালের মতো একটা আলতো হাই তুললাম। আমার কেন যেন মনে হয়, মহাপ্রলয়ের পরে মানুষের হয়তো বিড়ালের সঙ্গেই বসতি গড়তে হবে। এমন ধারণা কেন হলো তার কোনো বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা নেই। বিড়াল আমার দেখা সবচেয়ে কষ্টসহিষ্ণু প্রাণী নয়, সার্ভাইভালের ক্ষেত্রে পোষা প্রাণীদের মধ্যে এর চেয়ে কুকুরকেই এগিয়ে রাখব। কিন্তু আধ্যাত্মিক নানা প্রতীকী ধারণায় বিড়াল অনেক বেশি প্রতিষ্ঠিত এবং অশুভর সঙ্গে তার খানিক মাখামাখি নানান সংস্কৃতিতে খুঁজে পাওয়া যায়। মহাপ্রলয়ের মতো একটা ঘটনার পরের যে অনিশ্চিত সময়, তার সঙ্গে অশুভর একটা যোগাযোগ মনের মধ্যে আপনাতেই গড়ে ওঠে। তাই ওই সময়ে মানুষের সঙ্গে কো-এগজিস্ট করার জন্য বিড়ালকেই সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মনে হয়।

ছোট্ট একটা লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নামলাম। বিছানাটা মাটি থেকে মোটেই খুব উঁচুতে নয়, সুতরাং লাফ দিয়ে নামার কোনো প্রয়োজন ছিল না। তারপরও আমি প্রতিবারই লাফ দিয়ে নামি, হয়তো ভবিষ্যতে বিড়ালের সঙ্গে সহাবস্থানের প্রস্তুতি হিসেবেই এই অভ্যাস গড়ে উঠছে। শুধু এটা না, এ রকম আরও নানা কাজই আমি প্রতিদিন নিয়ম করে করি, কোনো রকম ব্যত্যয় ছাড়া। পুনরাবৃত্তির মধ্যে একটা নিশ্চয়তার গন্ধ আছে; একই ঘর, একই আকাশ, একই মানুষ বা একই অভ্যাস আমাদের জানায়, সব কিছু আগের মতোই আছে, পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যায়নি। যদিও আজ অন্যদিন করি না, এমন একটা কাজ হুট করে করে বসলাম। কোথায় আছি বোঝার জন্য, কিছুক্ষণ আকাশের দিকে নাক তুলে, গন্ধ শুঁকলাম। মনে হলো লোকেশন ট্রেস করার এটা একটা ভালো কায়দা হতে পারে। এখন থেকে এই শুঁকাশুঁকিও আমার নিত্যদিনকার অভ্যাসের অংশ হয়ে যেতে পারে, আবার পৃথিবীতে ঘটা নানা কাকতালীয় ও অকিঞ্চিৎকর ঘটনার মতোই, হারিয়ে যেতে পারে কালের গর্ভে। 

গন্ধ শুঁকতেই মনে পড়ে গেল, কোথায় আছি। নিজের বাসাতেই, মিরপুরের একটা ঘিঞ্জি ফ্ল্যাটে। আশপাশের এলাকা বেশ অপরিষ্কার, সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়ি সম্ভবত এত অলিগলি পার হতে গিয়ে কোনো একটা পর্যায়ে পথ হারিয়ে অন্য কোথাও চলে যায়। অথচ এলাকার চিরন্তন দুর্গন্ধে না, কোথায় আছি তা মনে পড়ল বাসার ভেতরেরই একটা পচা গন্ধে। দুদিন আগে হঠাৎ একটা ইঁদুর ঢুকে পড়েছিল ঘরে। খুব অস্বাভাবিক কিছু নয়, এলাকাটা এত নোংরা যে এ রকম দু-চারটা ইঁদুর ঢুকে পড়তেই পারে যেকোনো বাসায়। বিছানার এক কোনায় পড়ে থাকা একটা মোটাসোটা বইয়ের আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার পঞ্চত্বপ্রাপ্তি ঘটে। কিন্তু এরপর ইঁদুরটাকে তুলে বাইরে কোথাও ফেলে দিয়ে আসতে পারিনি। মনে হলো বিড়ালের সঙ্গে সহাবস্থানই যদি হয় মহাপ্রলয়ের পরে আমাদের নিয়তি, তাহলে একটা মৃত ইঁদুরকে তার রক্তসমেত ফ্লোর থেকে অপসৃত করা কোনোভাবেই স্বাভাবিক কর্মপন্থা হতে পারে না। তাই দুদিন ধরে ইঁদুরটা পড়ে আছে ওভাবেই, মানব ও বিড়ালজাতির ভবিষ্যৎ রক্তপাত আর পচনশীলতার নিশ্চয়তার একটা প্রতীক হয়ে। দিন দিন দুর্গন্ধ বাড়ছে, কিন্তু ওটাকে সরানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। বুঝতে পারছি না কোনটা আগে ঘটবে, মহাপ্রলয়, বিড়াল ও আমার যৌথজীবন নাকি মৃতদেহজাত দুর্গন্ধ থেকে আমার মুক্তি।

আপাতত দুর্গন্ধ ভুলে খোঁড়াতে খোঁড়াতে গিয়ে টিভি ছাড়লাম। কেন খোঁড়াচ্ছি সেটা মনে পড়ছে না, গুরুত্বপূর্ণ কিছু হলে যথাসময়ে মনে পড়বে এই আশায় আপাতত ব্যাপারটা উপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলাম। পুনরাবৃত্তিমূলক নানা কাজের মতোই, টেলিভিশন সেটও আমার কাছে নিশ্চয়তার একটা মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। পৃথিবী ধ্বংসের পরে কী হয়, এমন বিষয়ে নির্মিত ও লেখা সব সিনেমা ও বইয়ের কোথাও মানুষ মনের সুখে টিভি দেখছে, এমন কোনো দৃশ্য খুঁজে পাইনি। রঙিন পর্দায় উপস্থাপিকার উজ্জ্বল উপস্থিতি যতই আমাকে জীবনের ব্যাপারে আশাবাদী করতে চায়, প্রায় সমান্তরালে সাদা টাইলসের ওপর রক্তিম ইঁদুর আবার ঠিক ততটাই বিক্ষিপ্ততার দিকে ঠেলে নিয়ে যায়। কোনোভাবেই আমি মনোযোগ ও প্রেরণার বিন্দু একদিকে স্থির রাখতে পারি না। তবে যেহেতু বিড়ালটা আসার আগ পর্যন্ত ইঁদুরটাকে ওখানে থাকতে হবে, তাই আপাতত টিভির পর্দাতেই চোখ স্থির রাখার সিদ্ধান্ত নিই। সংবাদ পাঠকের মুখে পরিচিত সব দেশের নাম যদিও জানান দেয় পৃথিবীর মানচিত্র এখনো অটুটই আছে, খবরগুলো উল্টো বার্তা বহন করে। 

খুশি খুশি গলায় এক রিপোর্টার জানায়, হাজার বছর পরে মাংস খেয়ে ফেলতে পারে এমন প্যারাসাইট আবার মাথাচাড়া দিয়েছে আমেরিকার মাটিতে। মেক্সিকো সীমান্তের কাছে, টেক্সাসের এক বাছুরের দেহে বাসা বেঁধেছে স্ক্রুওর্ম, যে কিনা ক্ষতের ওপর ডিম পাড়ে, আর সেই ডিম থেকে নিষিক্ত ছাওয়েরা পোষকের মাংস খেয়ে ফেলে ধীরে ধীরে। ক’বছর আগেই আমরা টের পেয়ে গেছি, একটা মহামারীর আবির্ভাবেই এই মহাশক্তিশালী মনুষ্য প্রজাতি কতটা অসহায় হয়ে পড়ে। তার মানে কি এই, মহামারী জিনিসটা মানবজাতির অন্তিম পরিণতির পূর্বাভাস? অথচ ওই সময়ের দিকে ফিরে তাকালে মনে হয়, মানুষ বোধহয় শেষবারের মতো মনুষ্যত্ব ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ওই অবসরেই। কিন্তু সময়ের অভাবে, সুযোগটা আর কাজে লাগাতে পারেনি। 

মহামারী নিয়ে এ রকম কিছু ভাবনা আমার মনের ভেতরে ঘুরে বেড়ালেও, প্যারাসাইট সংক্রান্ত খবর বলার সময় রিপোর্টারের কণ্ঠের খুশি-খুশি ভাব আমাকে বিভ্রান্ত করে দেয়। তবে কি সহস্রাব্দ প্রাচীন প্যারাসাইটের ফিরে আসাটাই একটা আনন্দের বিষয়? অবশ্য হারিয়ে যাওয়া কেউ ফিরে এলে মানুষ খুশিই হয়। নাকি এটা মহামারীর দিনগুলোর কোনো নিভৃত সুখ-স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়ার উপজাত মাত্র? রিপোর্টারের আনন্দিত কণ্ঠ শুনতে শুনতে আবার মৃত ইঁদুরের দিকে তাকাই। বেশ একটা শ্লাঘায় মনটা ভরে ওঠে, আমার ফার্স্ট কিল। অনেকেই জানে না, পৃথিবীর মরবিডতম দৃশ্যগুলোই আসলে সবচেয়ে সুখের দৃশ্য, কেননা প্রতিটি নৃশংসতাই এর প্রবক্তার শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় বহন করে চলেছে।

মাংসখেকো প্যারাসাইটের খবর শেষ হতেই স্ক্রিন দখল করে নেয় আফ্রিকায় নতুন করে ইবোলা প্রাদুর্ভাব। ফিলিস্তিনে জন্ম নেওয়া সাত মাসের শিশুটির বয়স আর একদিনও বাড়বে না, আর কোনো দিনই হয়তো থামবে না সোমালিয়ার যুদ্ধ। ইউক্রেনের বুকের মধ্যে আঘাত হেনেছে কে? নাজি জার্মানি? নাকি লাল ফৌজ? কিন্তু হিটলার, স্ট্যালিন, নাজি জার্মানি, বার্লিনের দেয়াল আর লাল ফৌজ; এসবই না বিদায় নিয়েছে পৃথিবীর বুক থেকে? তাহলে কে কার বুকে আঘাত হানল? আমি আবার বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। যে মহাপ্রলয়ের অপেক্ষায় বসে আছি, তা কি আদৌ ভবিষ্যতের কোনো ঘটনা? নাকি এটাই সে মহাপ্রলয়, যখন প্রাণপণে ঠেকানো একটা মহামারী শেষ হতে না হতেই বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ শুরু হয় আরেকটা মহামারীর জন্মের আয়োজনে, প্রতিটি মায়ের অপরিসীম প্রার্থনা সত্ত্বেও সূর্য ডোবার আগেই বোমার ঘায়ে ছিটকে পড়ে অবোধ সন্তানের তুলতুলে শরীর আর আগত বিড়ালের খাবার হওয়ার অপেক্ষায় মানুষের হাতে মরে পড়ে থাকে একটি ইঁদুর।

বিড়ালের প্রসঙ্গ ধরে হঠাৎ শেষবার চুল কাটতে যাওয়ার কথা মনে পড়ে। সেটা কত দিন আগের কথা, তা অবশ্য আমার কাছে আর স্পষ্ট নয় এ মুহূর্তে। আমার নাপিত মনসুরের বিড়ালপ্রীতি নেই, তার সব ভালোবাসা পান্ডাদের জন্য। চুল কাটতে গেলেই আমাকে পান্ডা বিষয়ক নানা জ্ঞান আহরণ করে আসতে হয়। শেষবার যেদিন গেলাম, সেদিন জানিয়েছিল, পৃথিবীর যে প্রান্তেই কোনো পান্ডা থাকুক, তাদের মালিকানা নাকি এককভাবে চীনের। যদি কখনো চীনের মনে হয়, কোনো দেশে পান্ডাগুলো ভালো নেই, তাহলে এক চুটকি মেরে সব পান্ডাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে চীনের মাটিতে। অবশ্য খুব বেশি সুখে থাকার অপরাধেও যদি কোনো দিন ডাক পড়ে ওদের, তাতেও খুব বেশি অবাক হওয়ার কিছু নেই। কথাটা সত্য না মিথ্যা, তা আর আমার পক্ষে যাচাই করে দেখা সম্ভব হয়নি। মনসুর আমাকে আরও জানায়, জাপান থেকে সেখানকার স্থানীয় মানুষেরা দিন দিন নাই হয়ে যাচ্ছে। এমনও একদিন আসবে, যখন ওই দ্বীপপুঞ্জে জাপানিজ বলে আর কেউ থাকবে না। মনসুরের বলা এসব কথা মনে করে, আমার মনে নানা প্রশ্নের উদয় হতে থাকে। মানুষবিহীন জাপানে, চীনের পান্ডাদের জীবন কেমন হবে? পান্ডারা কি নিজেরা নিজেদের যত্ন নিতে পারে? নাকি এমন দেশে, পান্ডাদের থাকার প্রয়োজনও রহিত হয়। মানুষবিহীন নগরীতে, বিড়ালদের জীবনেই বা কী ঘটে? মহাপ্রলয়ের পরে, বিড়ালের শহর ইস্তানবুলে কী ঘটবে, যদি সেখানকার সব মানুষ মরে যায়? আচ্ছা, বিড়ালদের জীবনের প্রধান চাহিদাই বা কী? কেবল মাছ, দুধ আর মরা ইঁদুর? নাকি মনিবের মোলায়েম আদর না পেলেও বিড়ালের অস্তিত্ব অর্থহীন হয়ে পড়ে? মানুষ আর পান্ডার মতো, বিড়ালেরও কি রয়েছে কোনো নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ?

এসব জটিল ভাবনার দোলাচালে হঠাৎ প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত বোধ করি। কিন্তু ফ্রিজ খুলে দেখলাম, সব খাবারই অনেক আগে বাসি হয়ে গেছে। সবুজ ফাঙ্গাশ পড়েছে কিছুতে, কোনো কোনোটা থেকে বের হচ্ছে উৎকট দুর্গন্ধ। সারা ঘর তন্ন তন্ন করে খুঁজেও, খাবার মতো একটা দানাও পাওয়া যায় না। ময়লার গাড়ির মতোই, আমার রান্না আর বাজারের মানুষেরাও, এই ঘিঞ্জি গলিতে পথ হারিয়ে নিশ্চয়ই বিফল মনোরথে বাসায় ফিরে যায়। ওদের আর কী দোষ, আমি নিজেও অনেকবার বের হয়ে রাস্তা হাতড়ে মরে আবার ফেরত এসেছি। প্রথম প্রথম বের হতে চাওয়ার কোনো একটা উদ্দেশ্য থাকত, যেগুলো এখন আর মনে নেই। তারপর এক সময়, নিতান্ত ঘরে বসে থাকতে পারার অক্ষমতাতেই বের হতাম। অলিতে-গলিতে ব্যর্থ এমন অনেক অভিযানের পরে, দিন শেষে ফেরত আসতাম এই ফ্ল্যাটে, মাথা কুটে মরার একমাত্র পরিচিত ঠাঁই হিসেবে।

স্মৃতিহীনতার পাশবিক যন্ত্রণায়, আমার পুরো মনোযোগ ক্রমবর্ধমান ক্ষুধার দিকে গিয়ে পড়ে। একটা সময় ক্ষুধা প্রায় কামের মতো অনুভূতিতে পরিণত হয়ে, সর্বাঙ্গ গ্রাস করে নেয়। আর অবাক করা ব্যাপার হলো, এই ঘোরলাগা অবস্থাতে, আবছা করে স্মৃতি ফেরত আসতে থাকে। না, মহাপ্রলয় হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারি না, কিন্তু এটা আমি জানি এখন, মহাপ্রলয় আসলে সময়ের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দু নয়। সময়কে যদি আমরা ধরে নিই একটা নদী, তাহলে সেই নদীর বহমানতার মতোই মহাপ্রলয় একটা অবিরাম চলমান সত্য। সেটা যেমন নেমে আসতে পারে একটা গ্রহ জুড়ে, তেমনি কোনো বিপর্যয়কর মহাজাগতিক ধ্বংসলীলা ছাড়াও, যেকোনো মানুষই তার একান্ত ভুবনে মুখোমুখি হতে পারে ব্যক্তিগত মহাপ্রলয়ের।

এসব ভাবনার মধ্যেই, বাড়তে থাকা ক্ষুধাটা যেন বিগব্যাংয়ের মতো মাথার মধ্যে বিস্ফোরিত হয়। উন্মুত্ত হতাশার একেবারে শেষপ্রান্তে এসে, আমার চোখ হঠাৎ আটকে গেল মেঝেতে পড়ে থাকা ইঁদুরটার দিকে। সম্মোহিতের মতো ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম ওদিকে। অন্তরের গভীর থেকে একটা চাপা চিৎকার কী যেন মনে করিয়ে দিতে চাইল, কিন্তু সে কথা শোনার মতো অবস্থায় আমি আর এখন নেই। আস্তে করে হাঁটু গেঁড়ে বসে, মুখ ডুবিয়ে দিলাম। চোখ বুজে একটা কামড় দিলাম, অপেক্ষায় আছি, মস্তিষ্ক ভয়ানক কোনো সংকেত দেয় কি না। কিন্তু না, এক আশ্চর্য স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে খেতে থাকলাম, পচা মাংস ও রক্তের মিলিত স্বাদ আমার অস্তিত্বকে পূর্ণ করে তুলল যেন। খাবার শেষে হাতটা চেটে চেটে নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করার সময় মনে হলো, মহাপ্রলয়ের জন্য অপেক্ষার মুহূর্তগুলো খুব বেশি বিরক্তিকর লাগবে না আর এখন থেকে।