চোখ মেলে তাকাল সিতারা বেগম।
কিছুক্ষণ শূন্যে তাকিয়ে রইল।
মাথার ওপর একটা ফ্যান ঘুরছে। ফ্যানটার তিনটা ধবধবে সাদা পাখা। একটা নির্দিষ্ট লয়ে পাখাগুলোর ঘূর্ণন একটা ভ্রমের ঘোর সৃষ্টি করছে। সিতারা বেগমের মাথাটা আজ হালকা অনুভূত হচ্ছে, অথচ কাল রাতেও সে সারা শরীরের ব্যথায় কাতরাচ্ছিল। কালসিটে পড়ে যাওয়া ফোলা চোখের ব্যথায় প্রাণটা যায় যায় অবস্থা। শরীরের বিভিন্ন জায়গাতেও জখমের দাগ দগদগে হয়ে ছিল। সেখানে সরকারি হাসপাতালের নার্সরা ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে সারিয়ে তুলতে চেয়েছিল। সিতারা বেগমের ভীষণ ইচ্ছা করছিল ব্যথার যন্ত্রণায় ও মাগো ও মাগো বলে চিৎকার করতে। তাতে অন্তত জন্মদাত্রী মায়ের প্রতি অভিমানের দায়ের ভারটা কমত। সেই উপায়ও নেই। সে আজন্ম বোবা। বাকপ্রতিবন্ধী। ব্যথার যন্ত্রণাগুলো তাই সবসময় নির্বাক থেকেছে, চিৎকার করে জানান দিতে পারেনি পৃথিবীর যান্ত্রিক কোলাহলের ভেতর।
যে রাতে সন্ত্রাসীরা তার খুপড়িতে হানা দিল, চল্লিশ হাজার টাকার কাপড়ের পোটলাটা ছিনিয়ে নিয়ে গেল বেদম মারধর করে, সে রাতেও সিতারা বেগম চিৎকার করতে পারেনি। হিংস্র হায়েনাগুলো শুধু টাকাগুলো ছিনিয়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, ইচ্ছেমতো পিটিয়েছে দাদির বয়সী এক বৃদ্ধাকে। সিতারা বেগম ব্যথার যন্ত্রণায় গোঙাতে গোঙাতে শুধু ভেবেছে, ‘আমি কার কী ক্ষতি করছিলাম আল্লাহ? আমারে মারতাছে ক্যান?’
প্রায় চল্লিশ বছর আগে অজানা গন্তব্য থেকে ছেড়ে আসা এক ট্রেন থেমেছিল এই মেথিকান্দা স্টেশনে। স্টেশনে নেমে নির্বাক সিতারা বেগম ভিড় ঠেলে বিশ্রাম কক্ষের এক কোণে চুপচাপ বসেছিল অনেকক্ষণ। পৃথিবী তার কাছে ঘূর্ণায়মান এক জ্বলন্ত ট্রেন। যতক্ষণ ট্রেনের ভেতর অবস্থানরত যাত্রী, ততক্ষণ সে এই উত্তাপের ছটফটানি টের পায়। তবে জ্বলন্ত আগুনের দাউদাউ শব্দটা অনুভব করতে পারে না। এমনি এক ঘোর বরষায় নিজের জীবনের ওপর অভিমান করে বাড়ির চৌকাঠে পার্থিব সমস্ত অভিযোগ পেছনে ফেলে নাম না জানা এক ট্রেনে চেপে বসেছিল সিতারা বেগম, তারপর সেই ট্রেন তাকে পৌঁছে দিয়েছে এই মেথিকান্দা স্টেশনে। সেই থেকে তার এখানে আবাস। এলাকাবাসী আজও জানে না সিতারা বেগমের বাড়ি কোথায়, কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে এসেছে, কার কাছে এসেছে। জীবনের উদ্দেশ্যহীন গন্তব্যে ভেসে চলা বানভাসী এক খড়কুটোর মতো সে ভাসছিল, মেথিকান্দা গ্রামবাসী এই নিঃশব্দ আগন্তুককে খুব নির্ভার আগলে নিল, তাকে একটা ঠাঁই দিল, পরিচয় দিল। আদর করে নাম দিল সিতারা বেগম।
দুদিন ধরে বিশ্রাম কক্ষের কোনায় একটানা বসে থাকতে দেখে স্টেশন মাস্টারের ভ্রু কুঁচকে এলো। পুরান পাগলে ভাত পায় না আবার নতুন পাগলের আমদানি। কোত্থেকে যে আসে এগুলা। সিতারা বেগমের সামনে গিয়ে খেই খেই করে ওঠে স্টেশন মাস্টার ইয়াজউদ্দিন, ‘ওই বেডি, তোর ঘর বাড়ি নাই?’
সিতারা বেগম চোখ তুলে তাকায়। মলিন মায়াবী চোখের দিকে তাকিয়ে ধক করে ওঠে ষাটোর্ধ ইয়াজুদ্দিনের হৃদয়। স্টেশনে সারা দিন কত শত সহস্র মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। কিন্তু এই অজানা অচেনা মলিন অসহায় নারীটির চোখের দিকে তাকিয়ে তার কর্কশ হৃদয়ের কেন এমনটা লাগল ঠিক বুঝে উঠতে পারল না। চোখের ভাষাটা ভীষণ করুণ, যেন একটা আর্তিমাখা আবেদন লুকিয়ে আছে ঘন পল্লবে ছাওয়া চোখের অক্ষিকোটরে। ঠিক তার মায়ের চোখের মতো!
সিতারা বেগম কোনো উত্তর দেয় না। শুধু হাত নেড়ে বোঝানোর চেষ্টা করে তার কেউ নাই, কিছু নাই এই জগৎ সংসারে।
সিতারা বেগমের নির্বাক কথার মানে কতটুকু বুঝতে পারল জানি না, ইয়াজউদ্দিন নরম সুরে জিজ্ঞেস করে, খাইছস কিছু?
সিতারা বেগম শুধু নির্বিকার ডান বামে মাথা নাড়ে।
মুখের হুইসেলটা বাজিয়ে ইয়াজউদ্দিন দ্রুত সরে যায় সামনে থেকে। পরক্ষণেই একটা পানির বোতল আর বাটারবনের প্যাকেট নিয়ে হাজির। সিতারা বেগমের হাতে খাবারের ঠোঙাটা ধরিয়ে দিতে দিতে একটু উঁচু স্বরে বলে, ‘কাজকাম করতে পারবা? এই ইস্টিশনের ময়লা পরিষ্কার করতে পারবা প্রত্যেক দিন?’
সিতারা বেগম ড্যাব ড্যাব করে চেয়ে থাকে অনেকক্ষণ। তার মাথার ভেতর প্রতিধ্বনিত হচ্ছে আপন ভাবনাগুলো। সারা জীবন নিজের জীবনের ময়লাই তো পরিষ্কার করতে করতে পার করে দিল জীবনটা, এ আর এমন কী। একটা ইস্টিশনই তো।
স্টেশন মাস্টারের প্রস্তাবে সম্মতিসূচক মাথা নাড়ে সে।
তারপর খাবারগুলো হাতে নিয়েই গপগপ করে খেতে শুরু করে দেয়। ভীষণ ক্ষুধার্ত সে। এখানে দুদিন ধরে ঠায় বসে ছিল। কত মানুষ সামনে দিয়ে গেল, আসলো, কেউ তার দিকে ফিরেও তাকায়নি। সেও একটা ঘোরগ্রস্ত সন্ন্যাসীর মতো স্থির স্থাণু হয়ে বসে ছিল। পৃথিবীর কোনো হট্টগোলই তার মনোযোগ বিচ্যুত করতে পারেনি। ফেলে আসা সমস্ত স্মৃতির অতল গহ্বরে নির্বাক পাথরের মতো পড়ে ছিল।
সিতারা বেগমের বাবা মা দুজনেই বাকপ্রতিবন্ধী ছিল, তাই তাদের তিন সন্তানই বাকপ্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম নিয়েছে। এই কোলাহলের পৃথিবীতে নিঃশব্দ হয়ে জন্ম নেওয়াটাই যেন তাদের আজন্ম পাপ। পৃথিবীর মানুষ শব্দ চায়, শব্দ ছাড়া নিঃশব্দতা তারা বুঝতে চায় না। নিঃশব্দ প্রকৃতির ভাষাও বুঝতে না পেরে যেভাবে প্রকৃতিকে আঘাত করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত, ঠিক তেমন করে সিতারা বেগমের বাক প্রতিবন্ধী অনুভূতিগুলোকে আঘাত করে যাচ্ছিল পৃথিবীর রূঢ় শব্দেরা। এত প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও সিতারা বেগম ও ভাইয়েরা বেড়ে উঠল নিঃশব্দতায়। সিতারা বেগমকে ওখানকার পাড়ার লোকেরা কিংবা আত্মীয়রা নাম দিল পুষ্প। কারণ পুষ্পের মতো ফুটফুটে সুন্দর ছিল সে। বাসায় কেউ তাকে কোনো নামেই ডাকত না। নিঃশব্দ চোখের চাহনি আর আকার ইঙ্গিতে বুঝিয়ে সুঝিয়ে একটা নিঃশব্দ জগতের আবহে বেড়ে উঠেছিল এই গল্পের নায়িকা সিতারা বেগম, যার নাম ছিল পুষ্প। পুষ্প পৃথিবীর সমস্ত শোরগোলের শব্দ শুনতে পেত, কিন্তু কোনো শব্দ ফিরিয়ে দিতে পারত না, নিজের কাছে রেখে দিত। পুষ্প গায়ে গতরে বড় হয়ে উঠলে আত্মীয়রা উঠে পড়ে লাগল তার বিয়ে দেওয়ার জন্য। দূরের একটা গ্রামে মাঝবয়সী একটা দুশ্চরিত্র লোকের সঙ্গে মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে গেল। পুষ্পের মধু আহরণের উত্তেজনায় ওই মাঝবয়সী লোক বিয়ে করে ফেলল ঠিকই আর পেটে একটা বাচ্চাও দিয়ে দিল। অপরিণত বয়সের নির্বাক কিশোরী বধূ কঠিন দুনিয়ার মারপ্যাঁচ বুঝে ওঠার আগেই একটা ছেলে সন্তান প্রসব করল। ছেলে বড় হতে লাগল, এদিকে পুষ্পের শারীরিক অক্ষমতা আর বাকপ্রতিবন্ধকতা নিয়ে নানান অশান্তির অজুহাত শুরু হতে লাগল সংসারে। পুষ্পের স্বামীর সমস্ত ক্ষোভ, জেদের হিংস্র শব্দ আর আঘাত আছড়ে পড়তে লাগল তরুণী পুষ্পের নিঃশব্দ জগতে। দুশ্চরিত্র স্বামী আর নিষ্পাপ সন্তানকে ফেলে রেখে পুষ্প একদিন পালিয়ে ফিরে এলো তার বাপের বাড়িতে। তত দিনে বাপ মা দুজনেই গত হয়েছেন। ছিল দুই ভাইয়ের সংসার। সেই সংসারে অবশ্য দুজন সশব্দে নিজের অধিকার আদায় করতে জানা দুজন ভাবি এসেছেন। তাদের সারাক্ষণ খেটমেট করা অভিযোগনামার কোলাহলে পুষ্পের আর বেশিদিন ওই সংসারের ভাতও পেটে জুটল না। পুষ্প মনে মনে ভাবল, আল্লাহর এই দুনিয়াখান বিশাল বড়। কোনো না কোনো জায়গায় তার ভাতের জোগান হইলেই হইছে।
ভরা এক পূর্ণিমার রাতে এক কাপড়ে নিঃশব্দে বেরিয়ে পড়েছিল পুষ্প, ভাইয়ের বাড়ি থেকে। কাছের একটা স্টেশন থেকে একটা ট্রেনে উঠে পড়েছিল সেদিন। ট্রেনটার নাম তার জানা নেই, গন্তব্যও জানা নেই। শুধু শব্দহীন পুষ্প জানত কোনো না কোনো একটা ইস্টিশনে তো ট্রেন থামবে!
পুষ্পের ট্রেনটা সেদিন মেথিকান্দা স্টেশনে এসে থেমেছিল...
সেদিনও রাতে রুপালি থালার মতো চাঁদটা ঝকঝক করছিল শরতের সাদা মেঘের আকাশজুড়ে। স্টেশন থেকে ফিরে সিতারা বেগম এক মুঠ মোটা চাল ভাঙাচোরা একটা অ্যালুমিনিয়ামের পাতিলে মাটির চুলায় চড়িয়ে দিয়ে হাত পা ছড়িয়ে সবেমাত্র বসেছিল। সারা দিনের ক্লান্তি জেঁকে বসেছে। দিনভর স্টেশনের আনাচে কানাচে পরিষ্কার করার দায়িত্ব সেই প্রায় চল্লিশ বছর আগেকার স্টেশন মাস্টার ইয়াজউদ্দিন সাহেব যেদিন থেকে দিয়ে গিয়েছিল, সেই দায়িত্বটা সে একান্ত নিষ্ঠা দিয়ে পালন করে আসছে। এই দীর্ঘ সময়ে কত কিছুর পরিবর্তন হয়েছে, স্টেশন মাস্টার পাল্টেছে, পাল্টেছে স্টেশনের কাঠামো, পাল্টেছে স্টেশনের অভ্যন্তরীণ চেহারা, শুধু পাল্টায়নি সিতারা বেগমের জীবনের ঠাঁই দেওয়া এই স্টেশনের দায়িত্বের প্রতি একনিষ্ঠতা। জীবনজুড়ে তার একটাই দায়িত্ব, স্টেশনটাকে ঝকঝকে তকতকে পরিষ্কার রাখা এবং সেটা সে ভালোবাসা দিয়েই একমনে পালন করেছে। তার এই একাগ্র নিষ্ঠা দেখে কত অচেনা মানুষ তাকে স্বতঃস্ফূর্ত আগ্রহে বকশিশ দিয়ে গেছে। এই বকশিশগুলোই তার সম্বল। কারণ এই পরিষ্কারের চাকরিটা তাকে কোনো নিয়মের ছাঁচে ফেলে দেওয়া হয়নি, বিনা বেতনেই শুরু হয়েছিল কাজটা। সেদিন স্টেশন মাস্টার শুধু তার একটা মাথা গোঁজার ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। নিঃশব্দ সিতারা বেগম সব নীরবে মেনে নিয়েছিল। কারণ পৃথিবীর এই সরব কোলাহলে নিজের অধিকার আদায়ের শব্দ তার কাছে ছিল না। তার কাছে মনে হয়েছিল, পৃথিবীর একটা ইস্টিশনে অন্তত তার ঠাঁই হলো। লোকে যখন যা কিছু খুশি হয়ে দেয়, তাতেই তার চলে যায়। সেই বকশিশগুলোই সযতনে একটা মাটির ব্যাংকে জমিয়ে রেখেছিল। জমতে জমতে এত বছরে মানুষের দেওয়া এই স্নেহাশিসমাখা বকশিশ যে হাজারের কোটায় ঠেকেছে, এটা তো সে টেরই পেত না যদি সেদিন আলতা বুয়ার চোখ না পড়ত।
আলতা বুয়া সেদিন ভ্রু কুঁচকে সন্দেহের চোখে মাটির চুলার পাশের কাপড়ের পোটলাটার দিকে তাকিয়ে বলেছিল, ও খালা, তোমার পোটলাতে তো মনে হয় ম্যালা ট্যাকা জমছে। দেও গুইনে দেই। তুমি তো আর গুনতে পারবা না। তোমার তো পড়ালেখা তো জানার কথা না। আমি ফাইভ পর্যন্ত পড়ছি তো তাই ম্যালা ট্যাকা গুনতে পারি।
আলতা বুয়ার পরিচয় হলো সে সিতারা বেগমের সঙ্গে স্টেশন পরিষ্কারে একসঙ্গেই কাজ করে, তবে সে রেলওয়ের বেতনভুক্ত কর্মচারী। বয়সে ছোট, চল্লিশের কাছাকাছি হবে। পানখোর আলতা বুয়ার অনেক দিন থেকেই তার ওই টাকার পোটলাটার দিকে চোখ।
সরল বিশ্বাসে সিতারা বেগম আলতা বুয়ার হাতে পোটলাটা তুলে দিল। সারা সন্ধ্যা সময় নিয়ে গুনল আলতা বুয়া। গোনা শেষ হওয়ার পর তার চোখ দুইটা গোল গোল হয়ে গেল। এত ট্যাকা? চল্লিশ হাজার?
একটা মানুষ তার ভালোবাসার বকশিশ এভাবে এত বছর ধরে কী করে জমালো?
ধরাম ধরাম করে টিনের দরজায় আঘাত পড়ল। ‘ওই বুড়ি দরজা খোল।’
চুলায় চাল ফুটে উঠেছে, টগবগ করে ফুটছে। দরজায় শব্দ শুনে সিতারা বেগম দরজা খুলল। দরজা খুলতেই একদল হায়েনা হুমড়ি খেয়ে পড়ল বয়োবৃদ্ধা সিতারা বেগমের ওপর। ওই বেডি, ট্যাকাগুলান কই? ভালোয় ভালোয় দিয়া দে। ক, কই রাখছস লুকাইয়া?
সিতারা বেগমের মুখ থেকে কোনো শব্দ বের হলো না। শুধু হাতজোড় করে সেদিন মিনতি করে বোঝাতে চেয়েছিল, এটা আমার সারাজীবনের সম্বল। আমার কাছে থেকে আমার সম্বলটুকু কেড়ে নিও না, আমার আর কিছু নেই।
হিংস্র পৃথিবী শুনল না, নিঃশব্দের আর্তি। সিতারা বেগমকে বেদম মারধর করে, পিটিয়ে, স্টেশনের পাশেই মাথা গোঁজার ঠাঁই ছোট্ট টিনের ঘরখানা তছনছ করে খুঁজে, নিষ্পাপ পুষ্পের সারাজীবনের সঞ্চয় ওই চল্লিশ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে গেল।
সিতারা বেগম চিৎকার করে কাঁদল, কিন্তু তার সেই কান্নার শব্দ পৃথিবী শুনতে পেল না।
হাসপাতালের ফ্যানটা মাথার ওপর ভনভন করে ঘুরছে। সিতারা বেগমের নিথর দেহটা ফ্যানের বাতাসে আর শিহরিত হচ্ছে না। মায়াবী চোখজোড়া শূন্যে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, সেই চাহনিতে কোনো অভিযোগ নেই। কদিন ধরে তাকে নিয়ে কম টানাহ্যাচড়া হয়নি। গণমাধ্যম, সংবাদমাধ্যম সবখানেই সিতারা বেগমের অসহায় নির্বাক চাহনির বেচাবিক্রি চলেছে, তাতে নিঃশব্দ মানুষটির কীইবা এসে গেল? সশব্দ দুনিয়া যে নিঃশব্দ একটা প্রাণের সম্বল অবলীলায় ছিনিয়ে নিয়ে গেল, সেই ব্যাথাটুকুই শুধু তীব্রভাবে অনুভূত হলো সিতারা বেগমের নির্বাক হৃদয়ে।
অ্যাম্বুলেন্সের গগনবিদারি সাইরেনের শব্দ নিথর পুষ্পের কান অব্দি পৌঁছাল না আর। পুষ্পের নিথর শরীর বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকারি অ্যাম্বুলেন্স এসেছে, তাকে সেই গাড়িতে চড়ানোও হলো। কোন গন্তব্য অভিমুখে রওনা হবে কেউ জানে না। পৃথিবী জানে, তার তো কেউ নেই। কেউ রাখেনি তার খোঁজ। এ পৃথিবী নিঃশব্দে হারিয়ে যাওয়া মানুষের খোঁজ রাখে না। হয়তো কোনো বেওয়ারিশ কবরই তার শেষ ইস্টিশন!
পুষ্পকে বয়ে নিয়ে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্স মেথিকান্দা স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছে...
দূরে ট্রেনের হুইসেল বাজছে... পুষ্পের ইস্টিশন ছেড়ে যাচ্ছে জীবনের ট্রেন...
গল্প
পুষ্পের ইস্টিশন
শানারেই দেবী শানু
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:০৯ পিএম
অলংকরণ : কাজী যুবাইর মাহমুদ
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
×
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
- ১
- ২
- ৩
- ৪
- ৫
- ৬
- ৭
- ৮
- ৯
- ১০
