বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রে দারুণ কিছু জয় পেলেও, ফাইনালে টিকে থাকার লড়াইয়ে এখন বেশ কঠিন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। তালিকার শীর্ষে থাকা অস্ট্রেলিয়া, দুর্দান্ত ফর্মে উঠে আসা দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা নিউজিল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের ভিড়ে টাইগারদের ৬০ শতাংশ পয়েন্টের ঘরে পৌঁছানো বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলতে হলে সাধারণত দলগুলোকে ৬০ শতাংশের বেশি পয়েন্ট নিশ্চিত করতে হয়। পাকিস্তান সিরিজের ঐতিহাসিক ২-০ ব্যবধানের জয় বাংলাদেশকে ভালো শক্তিমত্তা দিলেও সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন দুই অ্যাওয়ে সিরিজ।
বর্তমানে তালিকার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ৭টি জয় ও ৮৭.৫০% পয়েন্ট নিয়ে অনেকটাই সুসংহত প্যাট কামিন্সের দল। ফাইনাল নিশ্চিতে তাদের সামনে বাকি ১৪টি টেস্ট থেকে মাত্র ৬টি জয় ও ১টি ড্র প্রয়োজন। ৬টি হোম টেস্টের মধ্যে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে তাদের।
অন্যদিকে ৩ জয়ে ৭৫% পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে অবস্থান করছে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজেদের বাকি ১০টির মধ্যে ৮টি ম্যাচই তারা খেলবে ঘরের মাঠে, যার মধ্যে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি হোম সিরিজ রয়েছে।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে ৬ ম্যাচে ৭২.২২% পয়েন্ট নিয়ে তিনে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। তাদের বাকি ১০ টেস্টের মধ্যে ভারত ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪টি হোম ম্যাচ রয়েছে, যা জেতা কিউইদের জন্য তুলনামূলক সহজ হতে পারে।
বর্তমানে ৪ টেস্টে ২ জয়, ১ হার ও ১ ড্রয়ে ৫৮.৩৩% পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় চার নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। তবে ফাইনালের চূড়ান্ত লড়াইয়ে টিকতে বা ৬০% পয়েন্ট অতিক্রম করতে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে বাকি ৮টি টেস্ট থেকে কঠিন সমীকরণ মিলাতে হবে:
ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নির্ধারিত ৪টি টেস্টের চারটিতেই জয় পেতে হবে।
কেবল ঘরের মাঠে জয়ই যথেষ্ট নয়; অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো কঠিন অ্যাওয়ে সফরে ৪ টেস্টের অন্তত ১টি টেস্ট ম্যাচ জিততে হবে। কিংবা ন্যূনতম ৩টি টেস্ট ড্র করতে হবে। অর্থাৎ ঘরের মাঠে উইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডকে ধবলধোলাই করার পাশাপাশি ক্যানবেরা বা জোহানেসবার্গের মতো কন্ডিশনে পয়েন্ট ছিনিয়ে আনলেই কেবল বাংলাদেশের ঝুলিতে ৬০ শতাংশ পয়েন্ট জমা হবে।