অসম্ভব শক্তি, তীব্র গতিবেগ এবং তীক্ষ অনুভূতিসম্পন্ন প্রাণী ‘নেকড়েমানব’। তারা মানুষ থেকে পশুতে রূপান্তরিত হয়। গ্রিসবাসী একসময় বিশ্বাস করত কোনো মানুষ যদি নেকড়ের মাংস খায়, তাহলে নেকড়েমানবে পরিণত হবে। গ্রিক সাহিত্য থেকে প্রথম নেকড়েমানবের অস্তিত্ব জানা যায়। একসময় গ্রিক দেবতা জিউস, আর্কাডিয়া সাম্রাজ্যের রাজা লাইসিওনের আমন্ত্রণে প্রাসাদে আসেন। দেবতা জিউসের প্রতি রাজা লাইসিওনের বিশ্বাসের কমতি ছিল। এ কারণে তিনি রাজকীয় খাবারের সঙ্গে কৌশলে ‘নরমাংস’ দিয়ে তৈরি খাবার রাখলেন। পুত্র ‘নিকটিমাসকে’ হত্যা করে, তার মাংস পরিবেশন করেছিলেন রাজা। দেবতা আহারকক্ষে এসে টের পেলেন, সেখানে নরমাংসের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। এই নোংরা কাজের জন্য তিনি রাজাকে নেকড়েমানবে পরিণত করেন। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, বাস্তবে ‘নেকড়েমানব’ বলে কিছু নেই। বিভিন্ন শারীরিক বা মানসিক রোগের কারণে মানুষ ভাবে, ধীরে ধীরে সে নেকড়েতে পরিণত হচ্ছে। শরীরে বড় বড় লোম গজাচ্ছে, হাত-পায়ের নখ বড় হচ্ছে এবং কাঁচা মাংস খাওয়ার ইচ্ছে হচ্ছে তার। আসলে, ‘হাইপারট্রাইকোসিস’ রোগকে ‘ওয়্যারউলফ সিনড্রোম’ বলে। এই অবস্থার জন্য ‘জেনেটিক মিউটেশন’কে দায়ী করা হয়। এটি বিরল অসুখ। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজেকে হিংস্র প্রাণী ভাবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজেকে ‘ওয়্যারউলফ’ মনে করে। এটি গুরুতর মানসিক সমস্যা। মানুষের এই রোগের সমস্যা সমাধানে বিজ্ঞানীরা ইলেক্ট্রোএনসেফালোগ্রামের মাধ্যমে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার চেষ্টা করছেন এবং এমন চারিত্রিক ও মানসিক অস্বাভাবিকতার মূল কারণ কোথায়, তা বোঝার চেষ্টা করছেন।