হাদি হত্যার বিচার বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত: জাবের

শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার বিচার শুধু হাদির জন্য নয়; এটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নের সঙ্গেও যুক্ত। এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করতে না পারলে আমরা দীর্ঘদিন নানা তত্ত্বের কথা বলে যাব, কিন্তু প্রকৃত সত্য সামনে আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের।

শনিবার  বিকেল ৩টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যেগে আয়োজিত জুলাইয়ের বিজয়গাথা ও বাংলাদেশপন্থী সংস্কৃতির নবযাত্রা শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে চাপ সৃষ্টি করে জুলাই নিয়ে আমাদের কাজগুলো বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আমরা সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে জুলাই নিয়ে কেউ কাজ না করলেও আমরা অন্তত ১০০টি মানসম্মত কাজ করতে চাই। আগামী ছয় মাসের মধ্যে জুলাই নিয়ে অন্য যেকোনো প্রকাশনীর চেয়ে বেশি বই প্রকাশ করার লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় বা কলকাতাকেন্দ্রিক ন্যারেটিভের বিপরীতে বাংলাদেশের আজাদীর গল্প, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ইতিহাসকে সিনেমা ও অন্যান্য মাধ্যমে তুলে ধরতে চাই।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন কাসীদা'র লিড ভোকালিস্ট আহমেদ আতাউল্লাহ সালমান, ইনকিলাব মঞ্চের সার্চ কমিটির সদস্য ও অভিনেতা আসাদুজ্জামান আসাদ, সার্চ কমিটির সদস্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও বিশ্লেষক ডা. মো. আরিফ মোর্শেদ খান, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুতাসিম বিল্লাহ এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক মশিউর রহমানসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র নেতারা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে ইনকিলাব মঞ্চ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো: হান্নান রাহীম বলেন, 'সামগ্রিক বিপ্লবের জন্য সাংস্কৃতিক বিপ্লব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা হয়তো একটি অভ্যুত্থান ঘটিয়েছি, কিন্তু সাংস্কৃতিক জায়গায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন এখনও আনতে পারিনি। আমাদের এই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। সাংস্কৃতিক বিপ্লবের এই অগ্রযাত্রায় আপনারা ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে থাকবেন এবং এই অগ্রযাত্রার সৈনিক হিসেবে ভূমিকা রাখবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।'