যশোরে হানিট্র্যাপ চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

নারীকে টোপ বানিয়ে টার্গেট ব্যক্তিকে ডেকে আনা। এরপর ঘরে আটকে আপত্তিকর ছবি তোলা। সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থসহ মূল্যবান জিনিস হাতিয়ে নেওয়া। কখনো আবার পরিবারের কাছে ফোন করে চাওয়া হয় মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ। যশোরে একের পর এক এমন ঘটনায় সামনে এসেছে সংঘবদ্ধ ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের ভয়ংকর কৌশল। সর্বশেষ গত শুক্রবার রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে এই চক্রের তিন সদস্য রাজা, বৃষ্টি ও জেরাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই আল আমিন জানিয়েছেন, নড়াইলের কালিয়া এলাকার এক যুবককে ল্যাপটপ বিক্রির প্রলোভনে শুক্রবার যশোরে ডেকে এনে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। পরে নারী সদস্যদের ব্যবহার করে তার সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তোলা হয়। সেই ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মোটরসাইকেল নিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২২ জানুয়ারি যশোরের চৌগাছায় হানিট্র্যাপের মাধ্যমে এক যুবককে আটকে রেখে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। একই বছরের আগস্টে যশোর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নেওয়ার মাধ্যমে হানিট্র্যাপের ফাঁদে ফেলে মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যেভাবে ফাঁদে ফেলা হয় : যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, চক্রগুলো টার্গেট ব্যক্তিকে বাছাই করে নানা কৌশলে যোগাযোগ স্থাপন করে। কখনো সামাজিক মাধ্যমে পণ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন, কখনো পূর্বপরিচয়, আবার কখনো নারী সদস্যের সঙ্গে সম্পর্কের প্রলোভন ব্যবহার করা হয়।

এরপর নির্দিষ্ট বাসা কিংবা নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয় টার্গেট ব্যক্তিকে। সেখানে আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে চক্রের অন্য সদস্যরা। নারী সদস্যের সঙ্গে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও ধারণের পর শুরু হয় ভয় দেখানো। ছবি-ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে নগদ টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী আদায় করা হয়। টাকা না দিলে পরিবার, স্বজন কিংবা পরিচিতজনদের কাছে এসব ছবি পাঠানোর ভয় দেখানো হয়। কোনো কোনো ঘটনায় ভুক্তভোগীকে মারধর করে আটকে রাখারও অভিযোগ রয়েছে।

যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানিয়েছেন, যশোর সদর হাসপাতাল থেকে আটক তিনজনের নামে মামলা দিয়ে তাদের কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।