মাদ্রাসার জমি বন্ধক রেখে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং বেতগাড়ী একরামিয়া বহুমুখী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি মো. শহীদুল ইসলামের (মুন্সি) বিরুদ্ধে মাদ্রাসার প্রায় ১৬ বিঘা জমি বন্ধক রেখে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুদুল ইসলাম (সবুজ)-এর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার ১৮ শতক জমি জোরপূর্বক ভোগদখলের অভিযোগও করা হয়েছে। এসব অভিযোগ তদন্তে জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে।

জেলা প্রশাসকের কাছে গত ৯ এপ্রিল এলাকাবাসীর পক্ষে দেওয়া লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ২০১৫ সাল থেকে শহীদুল ইসলাম মাদ্রাসার পরিচালনায় প্রভাব বিস্তার করে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, বিভিন্ন তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ এবং প্রতিষ্ঠানের জমি বন্ধক রেখে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

বেতগাড়ী তহশিল অফিসের তথ্য উদ্ধৃত করে অভিযোগে বলা হয়, বেতগাড়ী মৌজায় মাদ্রাসার প্রায় ১৬ বিঘা জমি বন্ধক রেখে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একই মৌজার ১৮ শতক জমি ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মাহমুদুল ইসলাম (সবুজ) জোরপূর্বক ভোগদখল করে আছেন।

এ অভিযোগের পর জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তের নিদেশ দেন। এরপর গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মাহফুজার রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি সরেজমিন বাদী, বিবাদী, সাক্ষী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে। তদন্তে মাদ্রাসার নিজস্ব জমির পরিমাণ স্থানীয় হিসাবে প্রায় ১৯ বিঘা উল্লেখ রয়েছে।

সরেজমিন অভিযোগে উল্লেখিত জমিতে চাষাবাদ করা কয়েকজন ব্যক্তি জানান, তারা জমির ধরনভেদে ২ লাখ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে জমিগুলো বন্ধক নিয়ে আবাদ করছেন।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তিন মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব গ্রহণের সময় জমিসংক্রান্ত কোনো নথি আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। যারা জমি আবাদ করেন, তারা মাদ্রাসায় টাকা জমা দেন। সেই অর্থ গ্রহণের রসিদও রয়েছে।’ তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো রসিদ দেখাতে পারেননি।

অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদ্রাসাসংশ্লিষ্ট দুজন ব্যক্তি দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের জমি ও আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত নথি রয়েছে। তবে সেগুলো প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে।

জমি দখলের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদুল ইসলাম (সবুজ)-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে শহীদুল ইসলাম (মুন্সি) বলেন, মাদ্রাসার কোনো জমি বন্ধক দেওয়া হয়নি। সব জমি নিয়ম অনুযায়ী বর্গা দেওয়া হয়েছে।