বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে উন্মুখ হয়ে আছেন চট্টগ্রামের বাঁশখালীবাসী। প্রশাসনের তরফেও সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তার সফর কেন্দ্র করে উজ্জীবিত বিএনপির নেতাকর্মীরাও। আজ রবিবার চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সফরের অংশ হিসেবে বাঁশখালীতে আসছেন তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নির্ধারিত সমাবেশস্থল এলাকায় গতকাল শনিবার প্রশাসনের কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। বাঁশখালীর বিধবা সাজেদা বেগমের কাছে যে নতুন বাড়িটি হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী, সেই এলাকায় প্রশাসনের তৎপরতা ছিল। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বাহারছড়ার সমুদ্রসৈকত এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় বাঁশখালীর সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, সাবেক পৌরসভার মেয়র কামরুল ইসলাম হোছাইনী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রতি বছর বাঁশখালীবাসীকে যাতে আর বন্যা মোকাবিলা করতে না হয়, সে জন্য বর্তমান সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বাঁশখালী আগমন করেন এবং সেই সময় বাঁশখালীবাসীর যোগাযোগের অন্যতম শংখ নদীর তৈলার দ্বীপ সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এবার তারই সন্তান তারেক রহমান বাঁশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া পূরণ করবেন বলে আশা করছে সাধারণ জনগণ। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে যেসব প্রধান দাবি তুলবেন, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য টেকসই পুনর্বাসন ব্যবস্থা গ্রহণ, উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং পুরো উপকূলজুড়ে ‘মেরিন ড্রাইভ’ সড়ক বাস্তবায়ন করা। এ ছাড়া বাঁশখালীর প্রধান সড়ককে দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা এবং এলাকার অপার সম্ভাবনাময় সমুদ্রসৈকতকে পূর্ণাঙ্গ পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা, জলকদর খালকে সংস্কারপূর্বক কৃষি খাত অগ্রসর করা, বাঁশখালীতে উৎপাদিত এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের ১৩২০ মেগাওয়ার্ট বিদ্যুতের পরিপ্রেক্ষিতে বাঁশখালীবাসীর জন্য শতভাগ নীরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতকরণ এবং শংখ নদীর তৈলার দ্বীপ সেতু টোলমুক্ত করার দাবিগুলো সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে।