ইউরোপের অভিন্ন সীমান্ত ব্যবস্থায় নতুন করে তৈরি হয়েছে অস্থিরতা। অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুই সদস্য দেশ স্পেন ও ইতালির সম্পর্ক। সম্প্রতি মরক্কো থেকে স্পেনের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল সেউতায় প্রায় ৭৮ হাজার অভিবাসন-প্রত্যাশীর প্রবেশের পর ইতালি সাময়িকভাবে শেনজেন চুক্তির আওতায় থাকা সীমান্তমুক্ত চলাচল ব্যবস্থা স্থগিত করে। এর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে স্পেন- ইতালি থেকে আকাশ ও সমুদ্রপথে স্পেনে প্রবেশের ক্ষেত্রে সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে। স্প্যানিশ কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় গত শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হয়েছে এবং আগামী এক মাস তা বহাল থাকবে। ফলে ইউরোপের সীমান্তমুক্ত চলাচলের প্রতীক শেনজেন ব্যবস্থা আবারও চ্যালেঞ্জের মুখে। অভিবাসন সংকটকে কেন্দ্র করে স্পেন ও ইতালির মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধ এখন ছড়িয়ে পড়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতির বিতর্কে। উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইউরোপের অভিন্ন সীমান্ত ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে।
এর আগে রোম জানিয়েছিল, তাদের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ অন্তত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। ইতালির দাবি, ওই সময়ের মধ্যে সেউতায় ‘নতুন করে অভিবাসীদের ঢল’ নামার আশঙ্কা করছে স্পেন। ইতালির সঙ্গে স্পেনের কোনো স্থলসীমান্ত নেই। রোমের দাবি, সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের ইতালিতে চলে যাওয়া ঠেকাতেই সাময়িকভাবে সীমান্তমুক্ত শেনজেন ব্যবস্থা স্থগিত করা হয়েছে। তবে মাদ্রিদ এ যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, ইতালির অবস্থান ‘ভিত্তিহীন যুক্তির’ ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কারণ সেউতায় প্রবেশ করা অভিবাসীদের শেনজেন এলাকায় প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। এ পরিস্থিতিতে স্পেনের সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং ইতালির রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে। অভিবাসন ইস্যুতে এই বিরোধ এখন শুধু সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিভাজন দেখা দিয়েছে ইউরোপের অভিবাসন নীতিতে। একদিকে স্পেন মানবিক ও আইনি কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ইইউর অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন মেলোনি।
মাদ্রিদ যে পাল্টা ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে তার আওতায় ইতালি থেকে স্পেনে আসা ইতালীয় নাগরিক ও অন্যান্য দেশের যাত্রীদের পাসপোর্ট, জাতীয়তা ও ভিসা পরীক্ষা করা হবে। স্পেন সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশে ‘অবিরাম অনিয়মিত অভিবাসনচাপ’ অব্যাহত থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে সময়সীমা কমানো বা পরিবর্তন করা হতে পারে। শুক্রবার স্পেনের দেওয়া সময়সীমার প্রতিক্রিয়ায় ইতালি জানায়, তারা কোনো ‘আল্টিমেটাম’ গ্রহণ করবে না। ইতালির সরকার বলেছে, তৃতীয় দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে স্পেন থেকে আগতদের জন্য শেনজেন চুক্তির প্রয়োগ স্থগিতের সিদ্ধান্ত অন্তত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পরিবর্তনের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
ইতালির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটির স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষ সীমান্ত তল্লাশির সময় স্পেনসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। ইতালি আরও জানিয়েছে, স্পেনের নাগরিকদের অতিরিক্ত তল্লাশির আওতায় রাখা হচ্ছে না। এ ব্যবস্থা শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য। তবে স্পেনের সংবাদমাধ্যম ‘এল পাইস’ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে কয়েকটি বিমানবন্দরের টার্মিনালে দীর্ঘ সারি ও অপেক্ষার সৃষ্টি হয়েছে। স্পেন থেকে আসা যাত্রীদের তল্লাশির জন্য আলাদা লাইনে পাঠানো হচ্ছে।