জ্বর শরীরের গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। শরীরের তাপমাত্রা ঠিকভাবে জানার নির্ভরযোগ্য উপায় হলো থার্মোমিটার। আধুনিক থার্মোমিটারের ইতিহাস শুরু হয় ১৭১৪ সালে, যখন জার্মান পদার্থবিদ ড্যানিয়েল গ্যাব্রিয়েল ফারেনহাইট পারদভর্তি (মারকারি) থার্মোমিটার তৈরি করেন। পরে সুইডিশ জ্যোতির্বিজ্ঞানী অ্যান্ডার্স সেলসিয়াস ১৭৪২ সালে সেলসিয়াস তাপমাত্রা স্কেল প্রবর্তন করেন, যা বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ব্যবহৃত হয়।
সময়ের সঙ্গে থার্মোমিটারের প্রযুক্তিতেও এসেছে বড় পরিবর্তন। একসময় কাচের পারদ থার্মোমিটারই ছিল সবচেয়ে প্রচলিত। তবে পারদ বিষাক্ত হওয়ায় এখন অনেক দেশেই এর ব্যবহার সীমিত। বর্তমানে ডিজিটাল থার্মোমিটার, ইনফ্রারেড বা নন-কন্টাক্ট থার্মোমিটার, কানের (ইয়ার) থার্মোমিটার এবং কপালে ব্যবহৃত টেম্পোরাল থার্মোমিটার বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। দ্রুত ফল, সহজ ব্যবহার এবং নিরাপত্তার কারণে ডিজিটাল ও ইনফ্রারেড থার্মোমিটার এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়।
সাধারণত মুখ, বগল, কান বা মলদ্বার দিয়ে শরীরের তাপমাত্রা মাপা হয়। ডিজিটাল থার্মোমিটারে সাধারণত ৩০ সেকেন্ড থেকে এক মিনিট সময় লাগে, আর ইনফ্রারেড থার্মোমিটার এক থেকে দুই সেকেন্ডেই ফল জানিয়ে দেয়। একজন সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক শরীরের তাপমাত্রা প্রায় ৩৬.৫ থেকে ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি হলে সাধারণত জ¦র ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরে একটি মানসম্মত ডিজিটাল থার্মোমিটার রাখা জরুরি। কারণ সঠিক সময়ে শরীরের তাপমাত্রা জানা গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয় এবং আতঙ্ক এড়ানো যায়।