ইলোরা আজমি
শিক্ষার্থী, শমরিতা হাসপাতাল অ্যান্ড মেডিকেল কলেজ, ঢাকা
অতি বর্ষণে অনেক জায়গায় খাল-বিল, পুকুর ও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেক জায়গায় সর্প দংশনের শিকার হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে এটা বেশি হচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সর্প দংশনে প্রতি বছর দেশে মৃত্যু হয় প্রায় ছয় হাজার। সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা নিয়েও অনেক ভুল ধারণা প্রচলিত আছে। অনেক শিক্ষিত মানুষও সর্প-দংশিত ব্যক্তিকে ওঝাদের কাছে নিয়ে যায়, এর ফলে যথাযথ চিকিৎসা পেতে দেরি হয়ে যায়। এর ফলে অনেক সর্প-দংশিত ব্যক্তি মৃত্যুঝুঁকিতে পড়ে। এজন্য সাপে কাটা রোগীর আধুনিক বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা সম্পর্কে জানা জরুরি।
সর্প-দংশন নিয়ে ভ্রান্ত ধারণা
আমাদের দেশের সাপের ৯০ ভাগ সর্প-দংশন বিষহীন। এসব সাপের কামড়ে কিছুই হয় না। বিষাক্ত সাপের দংশনও অনেক সময় বিষহীন হতে পারে। শতকরা ৩০ ভাগ ক্ষেত্রে এমনকি গোখরার কামড় বিষহীন হতে পারে। চন্দ্রবোড়া সাপের ক্ষেত্রে হতে পারে শতকরা ৫০ ভাগ। কামড় দেওয়ার সময় বিষথলি থেকে বিষ নাও আসতে পারে। এটাকে বলে শুকনো দংশন। তবে সর্প-দংশনের পর যথাসম্ভব দ্রুত রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। সাপের বিষক্রিয়ার অনেক উপসর্গ রয়েছে। বিষ শরীরে প্রবেশ করলে উপসর্গ দেখা দেয়। এসব উপসর্গের বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসা রয়েছে। যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোনো লক্ষণ প্রকাশ না পায় তবে ধরে নিতে হবে নির্বিষ সাপ কামড়িয়েছে।
লক্ষণ
সাপে কাটা রোগীর দংশন স্থানে তীব্র ব্যথা, জ¦ালা-যন্ত্রণার পাশাপাশি আক্রান্ত অঙ্গ ফুলে যেতে পারে। রক্তক্ষরণ হতে পারে যেকোনো স্থান থেকে। সাপের বিষক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে স্নায়ু। কিডনি ফেইলোর কিংবা রোগী শকে চলে যেতে পারে। হঠাৎ হৃদযন্ত্র বন্ধ হতে পারে, যাকে বলে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট। এভাবেই মৃত্যু হয়।
প্রতিকার
আতঙ্ক আর মানসিক অস্থিরতায় রোগীর অবস্থা জটিল হতে পারে। দংশিত স্থান সাবান পানি দিয়ে আলতো করে ধুয়ে পরিষ্কার কাপড় দিয়ে বেঁধে দিতে হবে। দ্রুতই আংটি, ঘড়ি, আঙ্কেলেট ইত্যাদি খুলে ফেলতে হবে দংশিত অঙ্গের। হাত-পা ভেঙে গেলে যেভাবে অঙ্গ স্থির রাখতে হয়, সেভাবে রোগীকে স্থানান্তর করতে হবে। প্রেশার ব্যান্ডেজ দিয়ে রোগী স্থানান্তর করা। রোগীকে এক কাত করে শুইয়ে রাখতে হবে স্থানান্তরের সময়। দ্রুত রোগীকে পাঠাতে হবে হাসপাতালে। রোগীর শ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে শ্বাসনল প্রবেশ করিয়ে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস চালু রাখার ব্যবস্থা নিতে হবে। সাপ মেরে ফেললে যদি সম্ভব হয় মৃত সাপ হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। সম্ভব হলে ছবি কিংবা ভিডিও আপলোড করে আনতে পারলে চিকিৎসকের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া সুবিধা হয়।
যা করবেন না
দংশিত অঙ্গ নাড়াচাড়া করা যাবে না। হাতে বা পায়ে কামড় দিলে রোগীকে হাঁটানো,হাত নাড়ানো যাবে না।
শক্ত গিট্টু দিয়ে রাখলে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে আক্রান্ত অঙ্গে দেখা দিতে পারে পচনরোগ।
দংশিত স্থান কাটা-ছেঁড়া করা যাবে না। রোগীর ঢোক গিলতে কিংবা কথা বলতে কষ্ট, বমি অথবা অতিরিক্ত লালা ঝরতে থাকলে রোগীর মুখের মধ্যে কোনো কিছু পুরে দেওয়া যাবে না।
হারবাল ওষুধ, পাথর, বিচি, থুতু, গোবর, মাটি বা পটাশিয়াম পারম্যাংগানেট-জাতীয় ওষুধ দেওয়া যাবে না। ব্যথানাশের জন্য অ্যাসপিরিন-জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যাবে না।