মুরাদনগর 

পড়ন্ত বিকেলে তিতাস নদীতে ভ্রমণপিপাসুদের ঢল

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার তিতাস নদীর তীর কিংবা সেতুর উপর পড়ন্ত বিকেল হলেই ঢল নামে ভ্রমণ পিপাসুদের। বিশেষ করে ছুটির দিনে মানুষের ভিড় অন্যান্য দিনের তুলনায় বহুগুণ বেড়ে যায়। মৃদু বাতাস, নদীর ঢেউ আর অস্তগামী সূর্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতে স্থানীয়রা ও ভ্রমণপিপাসুরা নদীর পাড়ে ভিড় করেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত তরুণ ও পরিবারের সদস্যরা নদীর পারে ও সেতুর উপর বসে সুন্দর সময় কাটান। অনেকেই আবার তিতাস নদীর স্বচ্ছ জলে বন্ধুবান্ধব বা পরিবার-পরিজন নিয়ে ছোট ডিঙি নৌকায় ঘুরে বেড়ান। ভ্রমণ পিপাসুদের প্রাণচাঞ্চল্যে প্রতিদিন বিকেলেই সৃষ্টি হয় এক অন্যরকম উৎসবের আমেজ।

শনিবার ছুটির দিন বিকেলে গিয়ে দেখা যায়, মুরাদনগর উপজেলা ছাড়াও আশেপাশের উপজেলা থেকে হাজারো দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিতাস নদীতে নৌকা ভ্রমণ ও বিকেলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন। কেউ নৌকায় ঘুরছেন, কেউ আবার তিতাসের স্বচ্ছ জলে গোধূলির অপরূপ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত, আবার অনেক তরুণরা দলবেঁধে নৌকায় ভেসে মনের সুখে গান করছেন। কলেজ ও স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণীসহ সব বয়সি মানুষের পদচারণায় মুখর পুরো এলাকা। 

কথা হয় মুরাদনগর উপজেলা সদর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা চাকরিজীবী মীর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, বর্ষার এই সময়টাতে তিতাস নদীতে পানি ভরপুর থাকে। নৌকা দিয়ে ঘুরতে অনেক ভালো লাগে। তাই আজকে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুরতে আসলাম। তবে তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখানে ঘণ্টা হিসেবে নৌকার ভাড়া বেশি নেওয়া হয়। অনেকের ইচ্ছে থাকলেও নৌকা দিয়ে ঘুরতে পারে না।

নৌকার বেশি ভাড়ার বিষয়ে মাঝিদের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, আগের তুলনায় নৌকা এখন অনেক বেশি দামে কিনতে হয়েছে। বর্ষার সিজনেই তারা নৌকাটা এখানে ব্যবহার করতে পারেন। বর্ষা চলে গেলে নৌকা পড়ে থাকে। সেজন্য ভাড়া একটু বেশি না নিলে পোষায় না।

দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সাফি তার বন্ধুদের নিয়ে তিতাস নদীর ব্রিজে ঘুরতে আসেন। ব্রিজের উপর আড্ডা দেওয়ার সময় কথা হয় তাদের সাথে। তারা জানান, মুরাদনগরে ঘোরার মত তেমন কোন জায়গা নেই। তাই প্রায় সময় বিকেলে বন্ধুরা মিলে এখানে ঘুরতে আসেন। ব্রিজে বসে বিকেলের সময়টা সবাই মিলে আড্ডা দেন। কখনো কখনো নৌকা দিয়ে ঘুরে বেড়ান।

স্থানীয় ব্যক্তি ফাহাদ রহমান বলেন, সারা বছরই বিকেল বেলা তিতাস নদীর ব্রিজে মানুষ ঘুরতে আসেন। তবে ছুটির দিনে মানুষের ভিড় অনেক থাকে। বিশেষ করে বর্ষার সময় নদীতে নৌকা দিয়ে ঘোরার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসেন।

বর্ষার জল, উন্মুক্ত ও নির্মল পরিবেশের অনন্য সমন্বয়ে তিতাস নদী ও তিতাস নদীর ব্রিজ এখন মুরাদনগরের অন্যতম আকর্ষণ। প্রকৃতির দেওয়া এই উপহারের কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটাতে প্রতিদিনই এখানে ছুটে আসছেন সৌন্দর্যপ্রেমী ভ্রমণপিপাসু শত শত মানুষ। আর প্রতিটি বর্ষাকাল যেন নতুন করে জানিয়ে দেয় তিতাস নদীর আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে কেবল বর্ষার জলেই।