বৃষ্টিতে গর্ত, গর্তে ট্রাক, মহাসড়কে অচলাবস্থা

বৃষ্টি নামলেই পিচ উঠে তৈরি হচ্ছে বিশালাকার গর্ত, আর তাতেই আটকে যাচ্ছে মালবাহী ট্রাক-তিন মাসের ধীরগতির সংস্কারকাজে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ময়নামতি যেন এক দুর্ভোগের ফাঁদ!

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার ময়নামতির আমতলী এলাকায় খানাখন্দ, পানি জমে থাকা ও ধীরগতির সংস্কারকাজে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকেরা। গত কয়েক দিন ধরে মহাসড়কের ওই অংশে যান চলাচল অনেকটাই ব্যাহত হচ্ছে। বড় বড় গর্তের কারণে ধীরগতি ও ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করায় তৈরি হচ্ছে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট।প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের। এতে ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, আমতলী এলাকার প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কে গত ৩ মাস ধরে সংস্কারকাজ করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এ কারণে মহাসড়কের এক পাশ বন্ধ রেখে অপর পাশ দিয়ে দুই দিকের যানবাহন চলাচল করছে।

তবে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে চালু থাকা বিকল্প লেনের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। কিছু জায়গায় জমেছে পানি। এতে সড়কটি যান চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গত দুই দিনে এসব গর্তে অন্তত চারটি ভারী মালবাহী ট্রাক আটকে যায়। এর পরপরই ওই এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গর্তগুলোতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ সাময়িকভাবে ইটের সুরকি বা মাটি দিয়ে ভরাট করছে। কিন্তু বৃষ্টিতে সেগুলো আবার ধুয়ে উঠে যাচ্ছে। তাদের মতে, বিকল্প লেনটি টেকসইভাবে সংস্কার না করা পর্যন্ত পরিস্থিতির উন্নতি হবে না। একই সঙ্গে দ্রুত মূল সড়কের সংস্কারকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মমিন বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি দ্রুত মেরামতের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগকে একাধিকবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মৌখিকভাবেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে এখনো স্থায়ীভাবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, দ্রুত সড়কের খানাখন্দ সংস্কার করা না হলে সামনে যানজট পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, বৃষ্টিই সংস্কারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আপাতত গর্ত ভরাটসহ অস্থায়ী সংস্কারকাজ করা হচ্ছে। তবে টানা বৃষ্টির কারণে এসব কাজ টেকসই হচ্ছে না। বৃষ্টি কমে রোদ উঠলেই পুরোদমে সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত