সমাজকল্যানমন্ত্রী ডা. এজেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের কারনে স্বৈরাচার সরকার বাধ্য হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। দেশ থেকে পালিয়ে উনি এখন যে অবস্থায় আছে, আমরা আশা করব ওনার যদি সাহস থাকে তাহলে দেশে ফিরে সে আইনের মুখোমুখি হোন। আইনে যদি উনি খালাস পেয়ে যান খুবই ভালো কথা, কিন্তু তাকে আইন-আদালতের মুখোমুখি হয়ে বিচারের সম্মুখীন হয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে ওনার এ সমস্ত কথা বলা উচিত।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় হিলি স্থলবন্দরের চারমাথা মোড়ে স্থলবন্দরের চেকপোস্ট গেট থেকে শুরু করে চারমাথা মোড় হয়ে মহিলা কলেজ পর্যন্ত সড়কের ফোরলেনে উন্নীত করন কাজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরো বলেন, গত ৫ই আগস্ট চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান দিবসে সেই দিন আমরা দেখেছি পলায়নকৃত স্বৈরাচার ওই দেশে আশ্রয় নিয়ে তাদের সহযোগিতায় যদিও সরকার বলছে ওনাদের সহযোগিতা নাই, কিন্তু তাদের একটা মনের সহযোগিতায় পলায়নকৃত স্বৈরাচার যে ধরণের উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টায় যে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, আমরা এটার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। স্বৈরাচারের পতনের পরবর্তীতে দেশের মানুষ অনেক ভালো আছে। অহেতুক মানুষকে উস্কানি দিয়ে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার যেকোনো প্রচেষ্টা সাধারণ জনগণ যেকোনো উপায়েই হোক তা প্রতিহত করবে। এটার জন্য বিএনপির দরকার পড়বে না, সাধারণ মানুষ মুখিয়ে আছে যেকোনো ধরণের স্বৈরাচারী কায়দায় যেই আসার চেষ্টা করবে, মানুষকে উস্কানি দিবে তাদেরকে প্রতিহত করতে। তারা সবাই অপেক্ষা করছে যে এই ধরণের উসকানিমূলক কার্যক্রম যদি কেউ করে সেটিকে প্রতিহত করার জন্য।
তিনি বলেন, হিলি স্থলবন্দরের চেকপোস্ট গেট থেকে চারমাথা মোড় হয়ে মহিলা কলেজ পর্যন্ত রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে রাস্তা ফোরলেনে প্রশস্তকরণ কর্মসূচি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়, এই এলাকার মানুষের সহযোগিতায়, প্রশাসনের সর্বস্তরের প্রচেষ্টায় আজ থেকে ইনশাআল্লাহ আমরা এর কাজ শুরু করতে যাচ্ছি। কাজ শুরু করতে গিয়ে মানুষের যে জায়গা জমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে, তার ক্ষতিপূরণ যাতে যথাসময়ে তাদের হাতে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসক দায়িত্ব নিয়েছেন। কোনো মধ্যস্বত্বভোগীর হস্তক্ষেপ ছাড়াই ক্ষতিগ্রস্তেরা সরাসরি তাদের এই সুবিধা বা ক্ষতিপূরণ পেয়ে যাবেন। আজ থেকেই রাস্তার কাজ শুরু হয়ে যাবে ও আগামী ৬ মাসের মধ্যে রাস্তাটিকে একটি পরিবর্তনযোগ্য অবস্থায় আনা হবে। যদিও পুরোপুরি কাজ সম্পন্ন হতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
এছাড়া হিলি স্থলবন্দরকে আরও কর্মক্ষম করতে কাস্টমসকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে কাস্টমসের নতুন অফিস তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। বিজিবি ও ইমিগ্রেশন পুলিশ যেন সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে, সেরকম আধুনিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এটি একটি আলাদা প্রোগ্রাম হিসেবে অব্যাহত থাকবে। একইসঙ্গে হিলি রেলওয়ে স্টেশনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে, যাতে মালামাল ওঠানামাসহ সব ধরনের কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন করা যায়। সমস্ত সিদ্ধান্তই জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এসময় সেখানে দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান, বিরামপুর নবাবগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন, হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।