মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন প্রণয়ন, কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন না করা এবং ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় জড়িতদের বিচারসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রী ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর বৈঠকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমানের দেওয়া অভিনন্দনপত্রে দাবিগুলো উল্লেখ করা হয়।
অভিনন্দনপত্রে হেফাজত ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে করা ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার এবং রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেমদের অংশীদার করার দাবি জানানো হয়েছে।
দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি মাদ্রাসার ডিগ্রির পাশাপাশি দাওরায়ে হাদিসের ডিগ্রিকেও শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করার কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবি জানিয়ে ভারতের মাওলানা সাদের বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
অভিনন্দনপত্রে হেফাজত তাদের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী, সাবেক আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী এবং ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগ্রামে’ নিহত ব্যক্তিদের স্মরণ করে।
এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস যুক্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আলেম-ওলামা ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থনের কথাও তুলে ধরা হয়।
হেফাজতের ৯ দাবি হলো :
১. মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাস করা।
২. কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করা।
৩. ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের নারকীয় হত্যাযজ্ঞে জড়িত, হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচার নিশ্চিতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার কায়েম করা।
৪. দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করার মাধ্যমে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ-বিদেশের সর্বত্র কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করা। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে সরকারি মাদরাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (মাস্টার্সের সমমান) ডিগ্রির উল্লেখ করা।
৫. শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা।
৬. কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা ও হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা।
৭. পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিগুলোর ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধ করা।
৮. আলেমদের বিরুদ্ধে আওয়ামী সরকারের সময়ের মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে এদেশের আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করা।
৯. বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভারতের ‘বিতর্কিত’ মাওলানা সাদের বাংলাদেশে আগমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়া।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।