ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ মডেল মসজিদের বিভিন্ন স্থানে বিশেষ লেখালেখির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
জানা গেছে ওই মসজিদের সাদা মার্বেল টাইলসে কালো কালিতে লেখা প্রেমের কথা। কোথাও জোড়ার নাম, কোথাও হৃদয়চিহ্ন। আবার কোনো টাইলসে আল্লাহর কাছে করা হয়েছে প্রেমের সম্পর্কের প্রার্থনা।
মসজিদের বিভিন্ন স্থানে এমন লেখালেখির ছবি প্রকাশ্যে আসায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি আহসানুল্লাহ কাসেমী।
শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি মসজিদের টাইলসে লেখা বিভিন্ন বার্তার ছবিও প্রকাশ করেন। ছবিগুলোতে মসজিদের সিঁড়ি, রেলিংসংলগ্ন মার্বেল অংশ ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে নাম, জোড়ার নাম, হৃদয়চিহ্ন ও প্রেমসংক্রান্ত নানা বার্তা দেখা যায়।
একটি টাইলসে লেখা হয়েছে, ‘হে আল্লাহ আমাদের দুইজনের প্রতিটি কথা কবুল করে নিও।’ লেখাটির পাশে আঁকা হয়েছে হৃদয়চিহ্ন। অন্য একটি টাইলসে ইংরেজিতে লেখা ‘Faria + Ziha’। আরেকটিতে রয়েছে ‘R + J’—এর পাশেও হৃদয়চিহ্ন আঁকা। কোথাও আবার লেখা হয়েছে ‘My Best Friend’। এ ছাড়া বিভিন্ন টাইলসে বাংলা ও ইংরেজিতে আরও কয়েকটি নাম, তারিখ ও প্রেমসংক্রান্ত বার্তা লেখা দেখা যায়।
ছবিতে থাকা লেখাগুলোর সঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ বিশ্বেশ্বরী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে। তবে এসব লেখা কারা করেছেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মুফতি আহসানুল্লাহ কাসেমী তাঁর পোস্টের শুরুতেই লেখেন, ‘মডেল মসজিদকে সাক্ষী রেখে প্রেম নিবেদন।’ এরপর তিনি লেখেন, এটি একটি সুন্দর মসজিদ। কোনো বিষয় স্মরণীয় করে রাখতে কেউ হয়তো এই মসজিদটি নির্বাচন করে থাকতে পারেন। তবে অবৈধ প্রেম না করে সেখানে এসে বিয়ে করার পরামর্শ দেন তিনি।
মসজিদের চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তরুণ-তরুণীদের সতর্ক করে ইমাম লেখেন, ‘মসজিদের চতুর্পাশে সিসি ক্যামেরা আছে। তোমাদের সবকিছু রেকর্ড হয়।’ এসব রেকর্ড প্রকাশ হলে ‘ইজ্জতের ফালুদা’ হয়ে যেতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
মসজিদের টাইলসে নিজেদের প্রেমের কাহিনি লিখে সেগুলো নষ্ট না করার আহ্বানও জানান মুফতি আহসানুল্লাহ কাসেমী। তাঁর ভাষায়, ‘মসজিদের টাইলসে নিজেদের প্রেম কাহিনি লিখে টাইলস নষ্ট করবা না।’
পোস্টের শেষ দিকে রসিকতার ছলে তিনি লেখেন, ‘বিশ্বেশ্বরীর বাবুরা! বি কেয়ারফুল।’
এ বিষয়ে মুফতি আহসানুল্লাহ কাসেমী দেশ রূপান্তরকে বলেন, মসজিদ আল্লাহর ঘর ও একটি পবিত্র স্থান। তাই এখানে কোনো অবৈধ কাজ কখনোই কাম্য নয়। আমরা সিসিটিভি ফুটেজে এটাও দেখেছি, অনেক ছেলেফেলে সতর্কতামূলক ধূমপান করে। যা কোনোভাবেই উচিত নয়। তাই সতর্কতামূলক পোস্টটি করেছি।
তিনি আরও বলেন, মসজিদের পবিত্রতা, পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
স্থানীয় ও সচেতন মহলের ভাষ্য, মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, এটি মুসলমানদের কাছে পবিত্র ও সম্মানের জায়গা। সেখানে টাইলস, দেয়াল কিংবা স্থাপনার কোনো অংশে প্রেমের বার্তা, নাম বা আঁকিবুঁকি করা কোনোভাবেই শোভন নয়। বিশেষ করে মডেল মসজিদের মতো দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার সৌন্দর্য রক্ষায় দর্শনার্থীদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।
পাশাপাশি কিশোর-কিশোরীদের এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরও সচেতনতা বাড়ানো দরকার বলে মনে করেন তাঁরা।