সীমানা অরক্ষিত, বহিরাগত ঠেকাতে ইবি প্রশাসনের দায়সারা মাইকিং 

ক্যাম্পাসের চারপাশের ভাঙা সীমানাপ্রাচীর ও উন্মুক্ত প্রবেশপথ মেরামত না করেই বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। গত ৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে জানিয়ে ক্যাম্পাসে মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক পরিচয়পত্র সাথে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

তবে অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কেবল মাইকিং করে বহিরাগত ঠেকানোর এই পদক্ষেপকে ‘দায়সারা’ ও ‘লোক দেখানো’ হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠনের নেতারা।

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ, এটিই প্রথম নয়; এর আগেও একাধিকবার এমন নিষেধাজ্ঞা ও মাইকিং করা হয়েছে। বাস্তবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে প্রায়ই এ ধরনের মাইকিং করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয় না।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলের পাশে, ইবি থানা গেট, মফিজ লেকের চারপাশসহ লালন শাহ হল ও শাহ আজিজুর রহমান হলের পকেট গেট এলাকা চরম অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কোথাও সীমানাপ্রাচীর ভাঙা, আবার কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় নিচু। প্রাচীরের উচ্চতা যথেষ্ট না হওয়ায় অধিকাংশ স্থানেই তা সহজে ডিঙানো সম্ভব; এমনকি নিরাপত্তা বাড়াতে কোনো কাঁটাতারের বেড়াও দেওয়া হয়নি। এছাড়া থানা গেট সম্পূর্ণরূপে উন্মুক্ত থাকায় এবং পকেট গেটগুলোতে নিরাপত্তাকর্মীদের যথোপযুক্ত তদারকি না থাকায় বহিরাগতরা অনায়াসে যাতায়াত করছে।

সীমানা অরক্ষিত থাকায় ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। সন্ধ্যার পর থেকেই নির্জন স্পটগুলোতে বহিরাগতদের আড্ডা, মাদক সেবন ও বখাটেদের আনাগোনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এতে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলে প্রতিনিয়ত ইভটিজিংয়ের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এছাড়া একাডেমিক ভবন ও আবাসিক হল এলাকা অরক্ষিত থাকায় ল্যাপটপ, সাইকেলসহ মূল্যবান সরঞ্জাম চুরির ঘটনা বাড়ছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এমন বাস্তবতায় প্রশাসনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। 

বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত খন্দকার বলেন, ‘বহিরাগত প্রবেশ বন্ধে শুধু মাইকিং যথেষ্ট নয়। প্রাচীর উঁচুকরণ ও সংস্কার, অরক্ষিত স্থানে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না করলে নিরাপত্তা নিশ্চিত সম্ভব নয়।’

আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী ও ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক নূর হোসাইন আল রিফাত প্রশাসনের ভূমিকাকে দায়িত্বহীনতা উল্লেখ করে বলেন, ‘নিরাপত্তার ন্যূনতম আয়োজন না করে বারবার শুধু মাইকিং করা প্রশাসনের ব্যর্থতা ও দায়িত্বহীনতারই বহিঃপ্রকাশ।’

একই সুর দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাদের বক্তব্যেও। শাখা শিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, ‘সীমানাপ্রাচীর মেরামত ও কাঁটাতার দিয়ে সুরক্ষিত না করে নিষেধাজ্ঞা জারি করা অর্থহীন। প্রশাসনকে আগে বহিরাগতমুক্ত করার প্রাথমিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।’

শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ বলেন, ‘উন্মুক্ত প্রাচীর দিয়ে যেখানে অনায়াসে প্রবেশ চলছে, সেখানে বারবার মাইকিংয়ের ঘোষণা কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এই নিরাপত্তার কোনো ভিত্তি নেই।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান জানান, সীমানাপ্রাচীর উঁচুকরণসহ সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে বড় অঙ্কের বাজেট প্রয়োজন। বিষয়টি ইতোমধ্যে উপাচার্যকে জানানো হয়েছে এবং একটি প্রকল্পের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পকেট গেট ও থানা গেট দিয়ে প্রবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘থানা গেটে আগে বেড়া দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শিক্ষার্থীরা তা ভেঙে ফেলেছিল। সেটি দ্রুতই আবার ঠিক করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে প্রক্টরের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।