প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিরাজমান সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে। ঢাকায় ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এমনটি মনে করেন। হাইকমিশনার গতকাল রবিবার বলেন, আমার মনে হচ্ছে, যদি দুই নেতার আলোচনা হয়, তখন অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভেক) শিশুদের জন্য খেলার জায়গার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন। ‘সমস্যার সমাধান হয়, যখন আমরা কথা বলি। আমার তো পুরো বিশ্বাস যে, মানুষ এক আছে। সমাধান হবে,’ এমনটি উল্লেখ করে ত্রিবেদী বলেন, ‘এখানটায় কোনো নেতিবাচক জিনিস নেই। সব ইতিবাচক।’ ভারতীয় হাইকমিশনারের আজ সোমবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। সরকারি উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ঢাকায় গত জুনে হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এটাই হবে দীনেশ ত্রিবেদীর প্রথম সাক্ষাৎ।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সবাই অনেক সম্মান করি। আমি অনেকবার তার বক্তৃতা শুনেছি। তিনি একজন জনবান্ধব ব্যক্তি; আমাদের প্রধানমন্ত্রীও (মোদি) তাই। আমি বিশ্বাস করি, যখন দুই নেতা বৈঠক করবেন, তখন অনেক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। এ বিষয়ে আমি পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী।’
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় শেখ হাসিনার সরকারের পতন হলে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন শুরু হয়। গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকার একটি আদালত তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়। বাংলাদেশ সরকার তাকে ফেরত চেয়ে ভারতকে কয়েক দফা পত্র দিয়েছে।
অন্যদিকে, সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ কর্মসূচিতে বিমসটেক-এর চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নয়াদিল্লিতে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন এবং ১৪ সেপ্টেম্বর ব্রিকস আউটরিচ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারেক রহমান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করলে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে ভারতে সফরের জন্যও মোদি আমন্ত্রণ জানান।
সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ব্রিকস আউটরিচ কর্মসূচির জন্য প্রধানমন্ত্রী যদি নয়াদিল্লি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে উক্ত কর্মসূচির পরপরই দ্বিপক্ষীয় সফর সম্পন্ন করারও সম্ভাবনা আছে। ভারতও এতে আগ্রহী। তবে তার নয়াদিল্লি যাওয়ার বিষয়ে গতকাল পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এরই মধ্যে, গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে বাংলাদেশের আপত্তির মধ্যেই গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে অডিওকলে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দিলে বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে; দুই দেশের মধ্যে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়।
এমন প্রেক্ষাপটে ভারতের হাইকমিশনার আজ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। দুই দেশের কয়েকটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী গতকাল রবিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কূটনৈতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাৎ হাইকমিশনারের অনুরোধে অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাইকমিশনারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দীনেশ ত্রিবেদী গত ২৯ জুলাই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবার সাক্ষাৎ করেন।
কূটনৈতিক কয়েকটি সূত্র জানায়, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপে দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী করতে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান।