চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আজ সকাল ১০টায় প্রকাশ হবে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সকাল ১০টায় সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করবেন। তিনি বলেন, সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটেও ফল প্রকাশ করা হবে। শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে ফরম পূরণ করেছে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন, দাখিল পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ এবং এসএসসি ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ ও ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন। পরীক্ষার প্রথম দিন দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২৫ হাজার ৪০৮ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও অনেকে অনুপস্থিত থাকে। ফরম পূরণ করলেও পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত অংশ নেয়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৩ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে ৮৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৮০ দশমিক ৩৯, ২০২৪ সালে কিছুটা বেড়ে ৮৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে আবার কমে দাঁড়ায়, ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ২০২৪ সালের তুলনায় গত বছর পাসের হার কমেছিল ১৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ। ফলে এবার পাসের হার কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা নিয়ে সংশয় কাজ করছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে কাজ করছে নানা সংশয় ও দুশ্চিন্তা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপির সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনো পাবলিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা হতে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঢালাওভাবে ফলের হার বাড়ানো হয়েছিল। ফলে শিক্ষার মান কমে যাচ্ছিল। পরবর্তীতে অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে খাতা দেখায় কড়াকড়ি আরোপ করলে ফলাফলে ধস নামে। এখন বিএনপি সরকার কোনো কৌশল নেয়, তা বোঝা যাবে ফল প্রকাশের পর।
এবার পরীক্ষকদের খাতা দেখার ক্ষেত্রে নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে পাসের হার ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়িয়ে দেয়। এতে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। এ বছর খাতা দেখার ক্ষেত্রে পরীক্ষকদের নতুন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি, বিগত অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার যে নির্দেশনা ও কৌশল নিয়েছিল, তা একই আছে।
এদিকে সবশেষ বিএনপি সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল তখন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ওই সময় পাবলিক পরীক্ষায় নকল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিলেন তিনি। ক্ষমতার পালাবদলে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয় এহছানুল হক মিলনকে। গত ২১ এপ্রিল শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ছিল শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার সময়ের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা। ফলে এই পরীক্ষার ফলাফলের পর বুঝা যাবে সরকার ও মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিভঙ্গি।
শিক্ষাবিদরা মনে করেন, পাসের হার বাড়িয়ে সাময়িক প্রশংসা পাওয়া যায় কিন্তু জাতীর বৃহত্তর স্বার্থে একটা প্যারামিটার ঠিক করতে হবে। কারণ এসএসসির ফলাফল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই পরীক্ষার ওপর নির্ভর করে একাদশে ভালো কলেজ এরপর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল ভর্তিতে সুযোগ পাওয়া। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন চাকরির ক্ষেত্রেও এসএসসির ফলের ওপর আলাদা নম্বর বরাদ্দ থাকে। তাই একটা মানদ- ঠিক করে এগোতে হবে। ফল ভালো বা খারাপের পেছনের কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে। যেসব শিক্ষার্থী খারাপ করছে, তারা কেন পিছিয়ে পড়ছে; সে কারণগুলো চিহ্নিত করে কাটিয়ে ওঠার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই নীতিনির্ধারকদের মূল কাজ হওয়া উচিত।
এবার ফল প্রকাশে তুলনামূলক বেশি সময় নেওয়া হয়েছে। পরিবর্তন করা হয়েছে ফল প্রকাশের তারিখও। গত ৮ জুন সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে ২০ জুলাই। পরে প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় ওই তারিখে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে না জানানো হয়। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ শিবলী সাদিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ফল প্রকাশ করা হবে ১০ আগস্ট।