ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর পক্ষে লড়াই করতে উত্তর কোরিয়া আবারও বিশাল সামরিক বহর পাঠাতে যাচ্ছে বলে তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। উত্তর কোরিয়া থেকে এবার প্রায় ৫০ হাজার নতুন সেনা ফ্রন্টলাইনে পাঠাবে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে নতুন করে যুদ্ধের সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানান, রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি ও পদক্ষেপ শেষ হতে যাচ্ছে। উত্তর কোরিয়া থেকে আগত নতুন এই সেনা দলকে রাশিয়ার কৌশলগত বিভিন্ন ভূখণ্ড ও যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
গোয়েন্দা তথ্য ও যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে ইউক্রেনীয় বাহিনী দাবি করছে, দেশটির সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার তৈরি বিভিন্ন ক্ষ ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে, মস্কো কেবল সৈন্যই আনছে না, বরং পিয়ংইয়ংয়ের সহায়তায় নিজ দেশে সমরাস্ত্র উৎপাদন ও লাইসেন্স নিয়ে প্রযুক্তির আদান-প্রদান বাড়িয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার এই নজিরবিহীন পদক্ষেপে দক্ষিণ এশিয়ার ভৌগোলিক রাজনীতিতে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ জোরদার করতে এবার দক্ষিণ কোরিয়ার সহায়তা চাইছে ইউক্রেন। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম শক্তিশালী করতে তারা সিউলের সঙ্গে ড্রোন নির্মাণ ও অন্যান্য প্রযুক্তিতে একযোগে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর ফলে মস্কো ও পিয়ংইয়ংকে ঠেকাতে এবার কিয়েভ ও সিউলের মধ্যকার নতুন এক যৌথ সামরিক অক্ষ গড়ে ওঠার আভাস মিলছে।