অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে নামার আগে রোমাঞ্চ ও চ্যালেঞ্জের মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ দলের পেসার তাসকিন আহমেদ। অস্ট্রেলিয়ায় এর আগে একাধিকবার সীমিত ওভারের বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও, লাল বলের ক্রিকেটে অজিদের বিপক্ষে তাদের মাটিতে খেলার অভিজ্ঞতা এটাই প্রথম তাসকিনের।
ডারউইনে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন জানান, বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে টেস্ট খেলা যেমন কঠিন, তেমনি তা বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় এক সম্মান ও গর্বের বিষয়।
ডারউইনে প্রথমবারের মতো খেলতে এসে শুরুতেই এখানকার আবহাওয়া নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এই স্পিডস্টার। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সব চমৎকার যাচ্ছে। ডারউইনে আমি এই প্রথম এলাম। আবহাওয়াটাও বেশ সুন্দর, আমাদের বাংলাদেশের মতোই বেশ গরম আর আরামদায়ক। অস্ট্রেলিয়ায় আগে কয়েকবার আসা হলেও ডারউইনে আসা কিংবা টেস্ট সিরিজের জন্য আসা দুটোই আমার জন্য প্রথমবার। তাই পুরো ব্যাপারটা বেশ উপভোগ করছি, মুখিয়ে আছি বলা যায়।’
বিশ্বসেরা প্রতিপক্ষের মাঠে খেলার চ্যালেঞ্জ ও নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে তাসকিন বলেন, ‘সত্যি বলতে, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে এখানে আসতে পেরে আমরা সত্যি সম্মানিত। কোনো সন্দেহ নেই যে ওরা বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। ওদের মাটিতে এসে ওদের বিপক্ষেই টেস্ট খেলা আমাদের জন্য অনেক বড় এক গর্বের বিষয়, আর আমরা আমাদের সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করব।’ সিরিজটির কঠিন বাস্তবতা মেনে নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘সিরিজটা যে একদমই সহজ হবে না সেটা জানি, তবে তাও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ কিছু করার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।’
মূল সিরিজ শুরুর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ, যেখানে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা। তবে সেই ধাক্কাকে পেছনে ফেলে মূল লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন তিনি। তাসকিনের মতে, ‘হেরে যাওয়ার অনুভূতিটা অবশ্যই সুখকর ছিল না, মনটা যে খুব একটা ভালো ছিল না সেটা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ক্রিকেটে এমনটা হয়েই থাকে। আমরা এখনও চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব এখানকার কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। ম্যাচটা হেরে গেলেও ভালো একটা প্রস্তুতি হয়েছে।’
উল্লেখ্য, আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার সিরিজের প্রথম টেস্ট শুরু হবে। এরপর ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট।