ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় পাসের হার কম হলেও বোর্ডের ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এর মধ্যে শতভাগ পাস করে আলোচনায় এসেছে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয় উপজেলার ভালুকজান মডার্ন গার্লস একাডেমি।
বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলের তালিকা অনুযায়ী, ভালুকজান মডার্ন গার্লস একাডেমি থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মাত্র একজন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। ওই একজন শিক্ষার্থীই পাস করেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ১০০ শতাংশ।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের শতভাগ পাস করা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে ভালুকজান মডার্ন গার্লস একাডেমি অবস্থান সবচেয়ে ছোট। তবে মাত্র একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও তার সফলতায় প্রতিষ্ঠানটি জায়গা করে নিয়েছে বোর্ডের শতভাগ পাসের তালিকায়।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৮৯ জন, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৮৫ জন, ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ থেকে ৫৩ জন, ইসলামপুর উপজেলার উত্তরা গোয়ালার চর আইডিয়াল হাই স্কুল থেকে ৩৪ জন, কেন্দুয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ থেকে ৩৬ জন, ময়মনসিংহ সদরের আইডিয়াল মডেল একাডেমি থেকে ৬৯ জন, সারিষাবাড়ীর চিলড্রেনস হোম পাবলিক স্কুল থেকে ৭৮ জন, ভালুকা উপজেলার নলুয়াকুড়ি কুমারী মারিয়া হাই স্কুল থেকে ১৬ জন এবং ময়মনসিংহ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল থেকে ২০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ পরীক্ষার্থী পাস করেছে।
অন্যদিকে, ময়মনসিংহ বোর্ডের চার জেলার চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ছাপরকোনা মনিজা আবুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার মুক্তাগাছা কলেজ (স্কুল শাখা) থেকে চারজন এবং ফুলবাড়িয়া উপজেলার শহীদ স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঁচজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েও কেউ উত্তীর্ণ হয়নি। জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার কদমতলী কারিপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও কেউ পাস করেনি।
এদিকে, এবার ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ১ লাখ ৯ হাজার ৬১৬ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৫ হাজার ২৮ জন। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬০ হাজার ২৭৪ জন।
ফলাফলে এবারও ছাত্রীদের সাফল্যের হার ছাত্রদের তুলনায় বেশি। ছাত্রীদের পাসের হার ৬২ দশমিক ৩৭ শতাংশ, বিপরীতে ছাত্রদের পাসের হার ৫২ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। এবার মোট ৫ হাজার ৭০০ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে ছাত্র ২ হাজার ৬২১ জন এবং ছাত্রী ৩ হাজার ৭৯ জন।