চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি আবাসিক হোটেল থেকে এক পুলিশ সদস্যের মরদেহ ও তার স্ত্রীকে আশঙ্কাজন অবস্থায় উদ্ধার করেছে মিরসরাই থানা পুলিশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) উপজেলার বড়তাকিয়া বাজারের রিলাক্স জোন আবাসিক হোটেল থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। এসময় হোটেল রুমে তাদের ১০ মাস বয়সী কন্যা শিশুকেও উদ্ধার করা হয়।
নিহত আমিনুল ইসলাম (৩২) উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুল হক মাস্টার বাড়ির আবুল হোসেনের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের রাঙ্গামাটি পুলিশ লাইনের এএসআই পদে কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার উপজেলার হাজীশ্বরাই এলাকার বাসিন্দা মো. ইব্রাহীমের মেয়ে।
হোটেল রিলেক্স জোনের কর্তৃপক্ষের তথ্য মতে, আমিনুল ইসলাম ও তার স্ত্রী গতকাল রবিবার দুপুর ২টার দিকে হোটেলে এসে ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। এরপর বিকেল, সন্ধ্যা এবং সর্বশেষ রাত ৯টার দিকে তারা খাবারের জন্য কক্ষ থেকে বের হন এবং যথারীতি রুমে ফিরেন।
পরদিন সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হোটেলকর্মীরা কক্ষ পরিষ্কার করার জন্য দরজায় একাধিকবার ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। পরে দায়িত্বরত ম্যানেজারও তাদের ডাকেন। একপর্যায়ে ভেতরে থাকা আমিনুল ইসলামের স্ত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় দরজা খুলে দেন। পরে হোটেলকর্মীরা কক্ষের ভেতরে খাটের পাশে ফ্যানের সঙ্গে আমিনুল ইসলামকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর তারা পুলিশকে খবর দেন।
হোটেল রিলেক্স জোনের ম্যানেজার সোহান বলেন, গতকাল রবিবার দুপুরে আমিনুল ইসলাম ও তার স্ত্রী পরিচয়ে দুজন হোটেলের ১০৪ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। এ সময় তাদের সঙ্গে ১০ মাস বয়সী একটি কন্যাশিশুও ছিল।
মিরসরাই সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) নাদিম হায়দার চৌধুরী বলেন, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় তার স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী কন্যাশিশুটি সুস্থ ও স্বাভাবিক আছে।
তিনি আরো বলেন, নিহত ব্যক্তি একজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।