বাংলাদেশের বিপক্ষে যে চ্যালেঞ্জ দেখছেন হেড

২২ বছর পর ডারউইনে টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে। আগামী ১৩ আগস্ট বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট দিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হবে নর্দান টেরিটরির এই শহরে। ডারউইনে টেস্ট ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে তাই উৎসবের আমেজ। এক মাস আগে অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়নকে দিয়ে শুরু হয়েছিল ক্ষণগণনা। এবার সেই অপেক্ষার শেষ প্রান্তে এসে পৌঁছেছে স্বাগতিকরা।

সিরিজ সামনে রেখে ডারউইনে পৌঁছে সোমবারই প্রথমবারের মতো অনুশীলনে নামে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। এই অনুশীলন দেখতে স্থানীয় সমর্থকদেরও ছিল বেশ আগ্রহ। তবে উৎসবের আবহের মাঝেও প্রতিপক্ষ বাংলাদেশকে নিয়ে যথেষ্ট সতর্ক ট্রাভিস হেডরা। বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার, ‘বাংলাদেশ দলও শক্তিশালী। আমরা এর আগেও এমন কন্ডিশনে খেলেছি। তবে আমাদের নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী সেরা খেলাটাই খেলতে হবে।’

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ৫৪ রানে অলআউট হয়ে যায়। এমন ভরাডুবি নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল হেডের কাছে। উত্তরে তিনি যা বলেছেন, তা শুনে একটু স্বস্তি পেতে পারে বাংলাদেশ। হেড বলেছেন, ‘যা হওয়ার তা তো হয়েছেই। এত বছরে আমিও অনেক বাজে ম্যাচে খেলেছি। এ ধরনের (প্রস্তুতি) ম্যাচগুলোতে সব সময়ই একটা আলাদা চ্যালেঞ্জ থাকে, কারণ তখন আপনার মন অন্য কোথাও (মূল টেস্টে) পড়ে থাকে।’ হেড মনে করেন, ওই ম্যাচের ইনিংস হার নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা, ‘বাংলাদেশ দলেও এমন কিছু ক্রিকেটার থাকবে, যারা শুধু বৃহস্পতিবারের ম্যাচ নিয়ে ও সেখান থেকে তাদের কী পাওয়ার আছে, তা নিয়ে ভাবছে। তারা প্রথম ইনিংসে ভালো খেলেছে, ২৭০–এর মতো (২৬৩) রান করেছে, সেঞ্চুরিও পেয়েছে। বাইরে থেকে ফলাফল যেমনই দেখাক না কেন, তারা হয়তো কিছুটা হতাশ হতে পারে, তবে দলের ভেতর থেকে তারা কেবল বৃহস্পতিবারের ম্যাচ নিয়েই ভাবছে।’

সর্বশেষ জুন মাসে বাংলাদেশ সফর করে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর মাঠে নামেনি অস্ট্রেলিয়া। অজিরা সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ৭ মাস আগে, চলতি বছরের শুরুতে অ্যাশেজের লড়াইয়ে। এবার ঘরের মাঠে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই সিরিজ দিয়ে আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরবে তারা। 

উল্টো চিত্র নাজমুল হোসেন শান্তর দলের। টানা খেলার মধ্যে রয়েছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে ভালো করতে না পারলেও ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে। এজন্য বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামতে মুখিয়ে আছেন বলে মন্তব্য করেন হেড, ‘বেশ ভালো একটা বিরতি পেয়েছি। ছেলেরা সবাই তরতাজা আছে। এখানে আসার আগে আমরা ব্রিসবেনে ভালো একটা সপ্তাহ কাটিয়েছি। সেখানে ট্রেনিং খুব ভালো ও চ্যালেঞ্জিং ছিল।’

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ টেস্টে খুব বেশি মুখোমুখি হয় না। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে মাত্র ৩টি সিরিজ খেলেছে দুই দল। এজন্য ২৩ বছর পর অজিদের মাঠে সাদা পোশাকের বনেদি সংস্করণে খেলার সুযোগ পেয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ২০০৩ সালের পর দুবার অজিরা বাংলাদেশে টেস্ট খেলতে এলেও ২০১৭ সালের পর আর দেখা হয়নি। এজন্য শান্তদের সম্পর্কে ধারণা পেতে ভিডিও ফুটেজের ওপর নির্ভর করছে স্বাগতিকরা। এ নিয়ে হেড বলেন, ‘আমাদের দলের অ্যানালিস্ট খুবই দক্ষ। আমরা অনেক ফুটেজ দেখেছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে উইকেট দেখে আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেব।’

ডারউইন সম্পর্কেও খুব বেশি ধারণা নেই হেডদের। এই মাঠে অজিরা সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ২০০৪ সালে। তবে সেখানকার আবহাওয়া ও কন্ডিশনের জন্য স্পিনাররা কিছুটা সুবিধা পান। এজন্য দীর্ঘদিন পর চোট কাটিয়ে দলে ফেরা নাথান লায়নকে পেয়ে উচ্ছ্বসিত হেড, ‘সে খুব ভালোভাবেই ফিরেছে এবং নিজের কাজ নিয়ে বেশ সিরিয়াস। ভালোভাবেই সেরে উঠেছে। যেহেতু অনেক দিন মাঠের বাইরে ছিল, তাই দলে ফেরার জন্য সবার চেয়ে বেশি আগ্রহী। ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসা অনেক। সে বেশ ভালো বোলিং করছে এবং ছন্দেও আছে। নেটেও সে দারুণ বোলিং করছে। পুরো ম্যাচজুড়েই সে ভালো বোলিং করেছে। তার প্রস্তুতিও বেশ ভালো।'