বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ফলে শীর্ষ সারিতে আছে রাজধানীর মিরহাজীরবাগের তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা। ফল আশানুরূপ হলেও তাদের লক্ষ্য ছিল এবার শীর্ষস্থানে ওঠার। এতে কিছুটা হতাশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও। তা’মীরুল মিল্লাত মিরহাজীরবাগ শাখায় এ বছর মোট ৪৩২ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৪০৯ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১১৫ জন। পাসের হার ৯২.৫০ শতাংশ, অকৃতকার্য মাত্র ২৩ জন। জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী তাযকিয়া সুলতানা বলেন, ‘জিপিএ ৫ পেয়েছি সম্পূর্ণ শিক্ষক ও মায়ের অবদান।’
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানী বলেন, ‘এই অর্জনের পেছনে রয়েছে শিক্ষকদের নিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম এবং অভিভাবকদের সদিচ্ছা ও সহায়তা। আমরা বিশ্বাস করি, এ সাফল্য ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই ফল আমাদের পথচলার শুরু মাত্র। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ আরও বড় এবং সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।’ তিনি শিক্ষার্থীদেও নৈতিকতা ও চারিত্রিক উৎকর্ষ সাধনের দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
জিপিএ ৫ পেয়ে শিক্ষার্থী ওমর ফারুক তৌসিফের চোখেমুখে ছিল আনন্দ। তবে হতাশা ছিল প্রতিষ্ঠানটি প্রথম স্থান অর্জন না করায়।
তা’মীরুল মিল্লাত মোতাওয়াল্লি ছাব্বির আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলতি বছরের ফলে অবনতি অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। আমরা লক্ষ্য করছি, বিগত কয়েক বছর ধরে প্রথমস্থান অর্জনকারী আমাদের প্রতিষ্ঠান এবার আশানুরূপ ভালো করেনি। জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে, পাশাপাশি পাসের হারেও হ্রাস দেখা যাচ্ছে।
মুন্সিবাগ দারুল ক্বারার মাদ্রাসার সাফল্য : এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার বরাবরের প্রথম হওয়া প্রতিষ্ঠান মুন্সিবাগ দারুল ক্বারার ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার এবারও আশানুরূপ ফলাফল করেছে। ৪৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাসের হার ৯৩.৪৭। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় দেশব্যাপী নারায়ণগঞ্জ শীর্ষস্থানীয়দের সারিতে রয়েছে এই মুন্সিবাগ দারুল ক্বারার ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা। প্রতিবারের মতো এ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় পর্যায়ে আশনুরূপ ফল অর্জন করেছে। মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা জিয়াউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ মাদ্রাসা নারায়ণগঞ্জে প্রথম সারির একটি প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানকে আবার প্রথম করতে সব শিক্ষক ও ছাত্রদের প্রচেষ্টা কাজ করেছে।’