বিশ্বজুড়ে সারের সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির মুখে দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে ন্যানো প্রযুক্তি। সারের পেছনে সরকারের বিপুল ভর্তুকির বোঝা হ্রাস এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাতে ন্যানো ফার্টিলাইজার (ন্যানো সার) প্রয়োগ ত্বরান্বিত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত নির্দেশনার পর কৃষি মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। পাশাপাশি বিএডিসি পাইলট প্রজেক্ট ও বিসিআইসি ‘ন্যানো সেল’ গঠন করে কার্যক্রম জোরদার করেছে।
বিশ্বের বহু দেশে ইতিমধ্যেই ন্যানো সার বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলসহ ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে এই প্রযুক্তি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী চাষাবাদে সাফল্য এনেছে। বাংলাদেশেও দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘বাংলা মার্ক কেমিক্যাল লিমিটেড’ গত পাঁচ বছর ধরে ন্যানো ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি ও এনপিকে নিয়ে সফল গবেষণা ও মাঠপর্যায়ে ট্রায়াল সম্পন্ন করেছে। ব্রি, বারি ও বিনা-র বিভিন্ন গবেষণায়ও এর চমৎকার ফল মিলেছে ।
বর্তমানে ইউরিয়া আমদানিতে সরকারকে কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়। অথচ মাত্র ৫০০ মিলিলিটারের একটি ন্যানো ইউরিয়ার বোতল ৫০ কেজির এক বস্তা যার খরচ কৃষকের জন্য অর্ধেকেরও কম। বাণিজ্যিকভাবে এর ব্যবহারে সারের সরকারি ভর্তুকি প্রায় ৮৭ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এ ছাড়া তরল ন্যানো সার পরিবহন করা সহজ এবং এটি সরাসরি পাতার মাধ্যমে শোষিত হওয়ায় মাটি ও জলাশয়ের দূষণ রোধ করে। বিদ্যমান সার সংকট কাটাতে ও কৃষকের উৎপাদন খরচ অর্ধেকে নামিয়ে আনতে ন্যানো সারের দ্রুত দানাদার সারের সমান কাজ করে, বাজারজাতকরণ এখন সময়ের দাবি।