কাদের-আরাফাতের কল রেকর্ড দাখিল

২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে চতুর্থ দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন। গতকাল সোমবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। গতকাল শুনানির সময় ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতের একটি ফোনকল রেকর্ড দাখিল করে প্রসিকিউশন। এতে সরকারের কথা না শুনলে টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধের হুমকির বিষয়টি শোনা যায়।

ওবায়দুল কাদের : ‘এই যে যারা কথা শোনে না, টিভি চ্যানেলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

আরাফাত : ‘ওই যে অফ করে দিছি গতকাল দুই-একটাকে। আজকেও বলে রাখছি যেগুলো শুনবে না অফ করে দিতে সাথে সাথে।’

ওবায়দুল কাদের : ‘আজকে যেন কোনো মারামারি, সংঘাতের খবর না দেয়।’

আরাফাত : ‘আজকে ওদেরকে বলছি যে, আজকে যদি কোনো সংঘর্ষের মারামারির ভিডিও ফুটেজ বা ছবি দেখায়, ওদের এনিমি অফ দ্য স্টেট হিসেবে ডিক্লেয়ার করা হবে এবং সারা জীবনের জন্য বন্ধ করে দেব...। আমি এই থ্রেট করে রাখছি। আর ওই যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে বসা রাখছি যে, আপনি কন্সট্যান্টলি দেখবেন, যে টিভি সংঘর্ষের ছবি দেখাবে সাথে সাথে অফ করে দেবেন। আমার কোনো পারমিশনের জন্য মেসেজ পাঠাবেন না, আপনাকে ঢালাও পারমিশন দিয়ে রাখলাম আর উইদাউট মাই পারমিশন এটা অন করবেন না, আর এ ব্যবস্থা নিয়ে রাখছি কাদের ভাই আসলে।’

এ মামলার সাত আসামি হলেন ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের (এখন নিষিদ্ধ) সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

সাত আসামির সবাই পলাতক এবং তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গত ২২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।