জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের হাত বন্ধ করতে চাই। আমরা এ ধরনের বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে ন্যায় ইনসাফের বাংলাদেশে সবার জন্য সমান অধিকার থাকবে। আমরা তা নিশ্চিত করতে চাই। এ জন্যই ছিল গণভোট। সরকারে যারা আছেন, তারাও বলেছিলেন ‘হ্যাঁ’ ভোটে রায় দেন। এখন আমরা ‘হ্যাঁ’র ওপরে আছি, তারা ‘না’ হয়ে গেছে।”
গতকাল সোমবার দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া সরকারি কাজী আজহার আলী মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জামায়াত আয়োজিত জনসমাবেশে তিনি বলেন, ‘‘আমরা পরিষ্কার করে বলছি, গণভোট না মানলে ‘না’ হবে না, ‘না’র সঙ্গে তারা নাই হয়ে যাবে। জনতার রায় অমান্য অগ্রাহ্য করে অতীতে কেউ টিকেনি, শান্তি পায়নি, সম্মান পায়নি, ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে পারেনি। ১৪, ১৮, ২৪ এর নির্বাচন তার প্রমাণ।’’
গত ২১ জুন সাঘাটার কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হামলায় নিহত হন সাইফুল্লাহ বারী এবং সালাউদ্দিন নামের দুই শিবির নেতা। এই হত্যাকা-ের বিচার এবং সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে গতকাল এ সমাবেশের আয়োজন করে গাইবান্ধা জেলা জামায়াতে ইসলামী।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সরকার গঠন হওয়ার পর আমাদের পাঁচজন খুন করা হয়েছে। আমরা চাই না, আবার খুনের রাজত্ব কায়েম হোক। সাবধান, এখানেই স্টপ, ফুলস্টপ। আর সামনে পা বাড়াবেন না, খুনের দিকে।’
দুই শিবির নেতা হত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনকে স্পষ্ট বলেতে চাই, আসামিদের নজরদাড়িতে রেখেছেন কিন্তু মূল আসামিকে ধরছেন না কেন। আপনাদের দায়বদ্ধের জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রশাসন কোনো দলের নয়, প্রশাসন গোটা জাতির সম্পদ।’
তিনি বলেন, ‘মিডিয়াতে দেখলাম, সরকারি দলের এক বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা উত্তরবঙ্গবাসীর উদ্দশে বলেছেন, আপনারা পিছিয়েই থাকবেন। কারণ, আপনারা জামায়াত আর জাতীয় পার্টিকে ভোট দেন।’ জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমি কাকে ভোট দেব এবং কাকে দেব না, সেটা বিএনপি ঠিক করে দেবে? তাহলে একটা আইন পাস করেন। আপনারা বহু আইন তো বেপরোয়া পাস করছেন। তাহলে আরও একটি আইন পাস করেন। আগামীতে বিএনপি ছাড়া কাউকে ভোট দেওয়া যাবে না। তখন জনগণ তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিবে ইনশাআল্লাহ।’
বিএনপির উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারা হাজারবার চেষ্টা করলেও ফ্যাসিস্ট হতে পারবেন না। কিন্তু আপনারা সেই পথে পা রাখছেন। আমরা চাই, জণগণের রায় মেনে নিন। ফ্যাসিবাদের রাস্তা বন্ধ করুন, সংস্কার সাধন করুন, মানবিক ও গণতান্তিক রাষ্ট্রের রাস্তা খুলে দিন। আমরা বিরোধী দল হিসেবে আপনাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করব। আর এখন যে পথে হাঁটছেন, সেই পথে আপা হেঁটেছিলেন। সেই পথে আপনারা হাঁটছেন। আপা যাওয়ার আগে বলতেন, আমি পালাই না। ওমুকের মেয়ে পালায় না। কী হইছে এখন, পালাইছে। আপনারা সেøাগান দিয়েছেন, পালাইছে রে পালাইছে। এই পথে যারাই হাঁটবেন, তাদেরই পালাইতে হবে। এই পথ পালানোর পথ। এই পথে হাঁটবেন, আপনি মক্কায় যেতে পারবেন না, আপনি দিল্লিতে যাবেন। এই পথের শেষ ঠিকানা দিল্লি। এই দেশের মানুষ দিল্লির খবরদারি চায় না। কোনো আধিপত্য চায় না। অপশক্তির কাছে মাথা নত করে না। ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে যতদিন বেঁচে থাকব, মাথা উঁচু করে থাকব।’
জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘জনগণ আর ফ্যাসিবাদ চায় না। কোনো ফ্যাসিবাদকে বাংলার জমিনে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। আপনারা তৈরি হন, যেভাবে ২৪ সালে রাস্তায় নেমে এসেছিলেন। হয়তো আবারও রাস্তায় নামতে হবে। জাতির জন্য একবার নয়, শতবার নামব ইনশাআল্লাহ। আমরা দুর্বল নই, যারা জনগণের কাছ থেকে চাঁদা নেয়, তারা দুর্বল।’
সমাবেশের আগে জামায়াত আমির বোনারপাড়ায় নিহত দুই শিবির নেতার কবর জিয়ারত করেন। তাদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং আর্থিক সহযোগিতা করেন।
জনসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা ও ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল ওয়ারেছ। বক্তব্য দেন, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল করিম, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর ও পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা প্রমুখ।