রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে লটারির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে এবারই প্রথম ব্যাচ এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফলে এ ব্যাচের ফল কেমন হবে, তা নিয়ে শুরু থেকেই ছিল বাড়তি কৌতূহল। কিছুটা দুশ্চিন্তায় ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল হক আহমেদও। তবে শতভাগ পাস করেছে এ প্রতিষ্ঠান থেকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা।
শতভাগ পাস : এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৮৬ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬১২ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্যদিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২২১ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬২ জন।
ফলের হিসাবে দুই বিভাগ মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ৯০৭ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে ৬৭৪ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির গত কয়েক বছরের ফলও ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০২৫ সালে ৮২৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ছিল ৮৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ২০২৪ সালে ৭৮০ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ছিল ৯৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। ২০২৩ সালে ৮৬৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়ার হার ছিল ৯৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল হক আহমেদ বলেন, একটু দুশ্চিন্তায় ছিলাম। কারণ লটারির মাধ্যমে ভর্তি হওয়া গ্রুপের এটাই প্রথম ব্যাচ, যারা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। এ শিক্ষার্থীদের ফল আমাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ফলের মাধ্যমে একটি নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগে আমি দুটি প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বিষয়ে অন্যদের চেয়ে আলাদাভাবে কাজ করেছেন। এখানে শিক্ষকরা শুধু পাঠ্যবই শেষ করার দিকে গুরুত্ব দেন না, শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে পড়ানো এবং পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের পেছনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা রয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠানের ফল শুধু পরীক্ষার সময়ের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে না; সারা বছর শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও শিক্ষার্থীদের পরিশ্রমের ওপর আমাদের আস্থা আছে।
কলেজের অ্যাডমিন মো. তারিকুল ইসলাম সরকার বলেন, আমরা শিক্ষা বোর্ডে যোগাযোগ করেছি। তারা বলেছেন সার্ভারে সমস্যা। এখনো রেজাল্ট পাইনি। সব সময় এমন হয় না, তবে এর আগেও দু-এক বছর রেজাল্ট পেতে এমন দেরি হয়েছে। এবার অনেক বেশি দেরি হচ্ছে। সম্মিলিতভাবে না পেলেও শিক্ষার্থীরা নিজেদের রেজাল্ট পেয়েছে।
এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর আনন্দে বন্ধুদের সঙ্গে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থী রামিসা মালিয়াত মাধুর্য। ফল প্রকাশে দেরি হওয়া এবং এবার জিপিএ-৫ পাওয়ার হার কমে যাওয়ার আশঙ্কায় সকাল থেকেই টেনশনে ছিল সে। তবে শেষ পর্যন্ত নিজের ও বন্ধুদের কাক্সিক্ষত ফল আসায় সেই দুশ্চিন্তা বদলে গেছে আনন্দে। মেয়ের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত বাবা গোলাম মাওলা মাসুমও। রামিসার ভাষায় রেজাল্ট দেরিতে হওয়ায় খুব টেনশনে ছিলাম। এবার জিপিএ ফাইভের হার খুব খারাপ। তারপরও বন্ধু গ্রুপের সবাই জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমরা খুবই খুশি। আর তার বাবা বলছিলেন, এর চেয়ে ভালো রেজাল্ট আর কি হয়!
কথা হলে রামিসা মালিয়াত মাধুর্য বলে, আলহামদুলিল্লাহ আমাদের ফ্রেন্ড গ্রুপ, এখানে সবাই আমরা জিপিএ-৫ পাইছি। আলহামদুলিল্লাহ আমরা অনেক খুশি। আমরা সবাই অনেক টেনশন করছিলাম। কারণ এবার জিপিএ-৫ এর হার তো অনেক কম হওয়ার কথা ছিল। সকাল থেকে অনেক ভয় পাচ্ছিলাম, কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ এখন সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছি। সবার রেজাল্ট শুনে আমরা অনেক খুশি। পরবর্তী লক্ষ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে রামিসা বলে, এখন লক্ষ্য ভালো করে পড়ব। সামনে যে আমার ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার ইচ্ছে রয়েছে।
রামিসার বাবা গোলাম মাওলা মাসুম বলেন, আমার মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। আমরা খুবই খুশি। আমরা খুবই শঙ্কিত ছিলাম। ওরা খুব টেনশনে ছিল। পরীক্ষাতে আসলে অনেক আনএক্সপেক্টেড ঘটনা ঘটেছে। এগুলো ওরা আসলে খুব স্ট্রেসে ছিল। কিন্তু তারপরও এই যে ওরা ভালো রেজাল্ট করছে এবং ও পড়াশোনা করেই আসলে করছে।
আরেক শিক্ষার্থী তাসফিয়া ইবনাত বলে, এক্সপেক্টেশনের থেকেও অনেক ভালো হয়েছে, আলহামদুলিল্লাহ। পরীক্ষার রেজাল্ট দেরি হওয়া একটা বিরক্তির কারণ ছিল প্রথমত। তবে অপেক্ষা সব সময় ভালো ফল দেয়। আমাদের ফল তাই হয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে এই শিক্ষার্থী জানায়, ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে রয়েছে আমার। এখন সেভাবেই প্রিপারেশন নেব।