ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন বিদ্যালয়ে। এসএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন করেছিল পাঁচ শিক্ষার্থী। শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নেয় চারজন। তাদের মধ্যে তিনজনই ফেল করেছে। মাত্র একজন পাস করলেও বিদ্যালয়টির এবারের এসএসসি ফলাফল নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার শিরীন আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের এ ফলাফল প্রকাশের পর স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে হতাশা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী সংখ্যা যেখানে হাতে গোনা, সেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতি বাড়তি নজরদারি ও পাঠদানের সুযোগ থাকার কথা থাকলেও ফলাফলে তার প্রতিফলন নেই বলে মনে করছেন অনেকে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে এ চিত্র পাওয়া যায়।
ওই বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চার শিক্ষার্থীই ছিল মানবিক বিভাগের। তাদের মধ্যে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছে। অপর তিনজন অনুত্তীর্ণ। এ ছাড়া নিবন্ধিত আরও একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক জানান, শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকলে একজন শিক্ষকের পক্ষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, দুর্বলতা ও অগ্রগতি আলাদাভাবে পর্যবেক্ষণ করা তুলনামূলক সহজ। এমন পরিস্থিতিতেও চার পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনজনের ফেল করার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে দেখার সুযোগ নেই। বিদ্যালয়ের পাঠদান, শিক্ষকদের উপস্থিতি, নিয়মিত মূল্যায়ন ও শিক্ষার্থীদের তদারকিতে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ছয়জন শিক্ষক রয়েছেন। এ বছর পাঁচজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষার জন্য নিবন্ধিত হয়েছিল। তাদের মধ্যে চারজন পরীক্ষায় অংশ নেয় এবং একজন অংশ নেয়নি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চারজনের মধ্যে একজন পাস করেছে।
তিনি বলেন, ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। ফলাফল উন্নত করার লক্ষ্যে খুব দ্রুত অভিভাবকদের নিয়ে একটি সমাবেশের আয়োজন করা হবে। সেখানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি ও বিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হবে।
হরিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হানিফা বলেন, যেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আশানুরূপ ফলাফল করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হবে। পাশাপাশি সমন্বয় সভায় ফলাফল পর্যালোচনা করে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ভালো ফলাফলের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।