কাজ করল গ্রামবাসী, বরাদ্দ গেল কার পকেটে?

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেতরাঙ্গা গ্রামের একটি রাস্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অর্থায়নে প্রায় দেড় বছর আগে সংস্কার করা ওই রাস্তার পাশে সম্প্রতি সরকারি প্রকল্পের সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন, বরাদ্দের গম উত্তোলন এবং বাস্তবে কতটুকু কাজ হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সৌদি আরবপ্রবাসী পেয়ার আহাম্মদের বাড়ির পাশের রাস্তাটি প্রায় দেড় বছর আগে এলাকাবাসী নিজেদের অর্থে মাটি ফেলে সংস্কার করেন। সম্প্রতি সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একটি সরকারি প্রকল্পের সাইনবোর্ড দেখতে পান তারা।

সাইনবোর্ডে বলা হয়েছে, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কাবিখা-গম সাধারণ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। ‘৭ নম্বর ওয়ার্ড কেতরাঙ্গা গ্রামের ইদ্রিসের বাড়ির পার্শ্বে আগ্রের ব্রিজগামী রাস্তায় মাটি ভরাট’ নামে নেওয়া এ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭ দশমিক ১৭০ মেট্রিক টন গম।

সাইনবোর্ড অনুযায়ী, প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ১ জানুয়ারি ২০২৬ এবং শেষ হওয়ার সম্ভাব্য তারিখ ৩১ মার্চ ২০২৬।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাইনবোর্ড স্থাপন করা হলেও বরাদ্দের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দৃশ্যমান কোনো কাজ তারা দেখতে পাননি। তাদের দাবি, সরকারি প্রকল্প নেওয়ার আগেই এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে সংশ্লিষ্ট সড়কে মাটি ভরাট করে সংস্কার করেছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান মানিক একটি স্ক্যাভেটর দিয়ে রাস্তায় সামান্য মাটি ছড়িয়ে দেন এবং কয়েকটি গর্ত ভরাট করেন। তবে ৭ দশমিক ১৭০ মেট্রিক টন গমের বরাদ্দের বিপরীতে বাস্তবে যতটুকু কাজ হওয়ার কথা, তার সঙ্গে দৃশ্যমান কাজের মিল রয়েছে কি না, তা নিয়েই তাদের প্রশ্ন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, রাস্তার সংস্কার যদি সরকারি প্রকল্প গ্রহণের আগেই এলাকাবাসীর অর্থায়নে হয়ে থাকে এবং প্রকল্পের আওতায় দৃশ্যমান কাজও সীমিত হয়ে থাকে, তাহলে বরাদ্দের ৭ দশমিক ১৭০ মেট্রিক টন গম কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান মানিক বলেন, তিনি প্রকল্পটির বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাঁর দাবি, শুধু কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেছেন। প্রকল্পের বিপরীতে উত্তোলন করা খাদ্যশস্য কোথায় গেছে, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রাজীব আহমেদ বলেন, প্রকল্প কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান মানিকের মাধ্যমেই কাজটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাঁর স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রকল্পের বরাদ্দের গম উত্তোলন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাজীব আহমেদ বলেন, ‘এখন তিনি কেন এ বিষয়ে জানেন না বলছেন, সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।’

পিআইওর দাবি, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কাজ শুরুর আগে এবং শেষ হওয়ার পরের ছবি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্যের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। এতে প্রকল্পের বরাদ্দ, খাদ্যশস্য উত্তোলন, বাস্তবে সম্পন্ন হওয়া কাজের পরিমাণ এবং পুরো বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, গম উত্তোলনের রেকর্ড, কাজ শুরুর আগের ও শেষের ছবি এবং সরেজমিনে সম্পন্ন কাজের পরিমাণ যাচাই করা হলে প্রকল্পটির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।