পারমাণবিক যুদ্ধের মারাত্মক ঝুঁকিতে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি। ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার হামলার বিপরীতে রাশিয়া তাদের সর্বোচ্চ ও শেষ প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার করতে পারে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে তুরস্ক। সেই সঙ্গে সংঘাত বাড়ায় দুই দেশেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রাণহানি, যার ওপর নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে পুতিনের বিশাল সেনা সমাবেশের প্রস্তুতি।
তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতার বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, সম্মুখভাগের যুদ্ধ যখন ক্ষয়িষ্ণু লড়াইয়ে রূপ নেয়, তখন বিষয়টিকে আর সাধারণ জয়-পরাজয় দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। এটি তখন জাতি হিসেবে টিকে থাকার লড়াই হয়ে দাঁড়ায়, যা বাধ্য করতে পারে পকেটে থাকা শেষ আর মারাত্মক অস্ত্রটি ব্যবহার করতে। ফিদান নিশ্চিত করেছেন যে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে পশ্চিমা অংশীদারদের সাথে আলোচনা হয়েছে এবং সম্ভাব্য এই মহাবিপর্যয় সম্পর্কে বিশ্বনেতারা সচেতন।
এদিকে সময়ের সাথে সাথে দুই দেশের মধ্যবর্তী সংঘাত আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নিচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্যমতে, উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যার মূল শিকার হচ্ছেন সাধারণ বেসামরিক জনগণ। সম্প্রতি রাশিয়ার তাতারস্তান অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, অন্যদিকে ইউক্রেনের খারকিভ অঞ্চলে রুশ গোলার আঘাতেও ঝরেছে তাজা প্রাণ। আকাশপথের এই যুদ্ধে প্রতিদিন শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে দুই পক্ষই।
পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুদ্ধ থামানোর কোনো শক্ত সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন না। বরং রাশিয়া জুড়েই নতুন করে প্রায় পাঁচ লাখ সেনা প্রস্তুতের এক বিশাল পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে হাঁটছেন তিনি, যা কার্যকর হতে পারে তাদের আসন্ন নির্বাচনের পরপরই। বিশ্বশান্তির আকাশে এই চরম অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের জীবনকে ফেলছে এক ভয়াবহ আশঙ্কার মুখে।