শান্তিচুক্তি নিয়ে বাড়ল অনিশ্চয়তা

ইরানের শান্তিচুক্তির শর্তের জবাবে সোমবার (১০ আগস্ট) নিজেদের কিছু নতুন দাবি তুলে ধরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধে, হামলা ও বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তিদের জন্য ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের এই বক্তব্য পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে, যা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। 

ট্রাম্পের এই ক্ষতিপূরণের দাবি আগে কখনো আলোচনায় আসেনি। ইরান শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ক্ষতিপূরণ এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পর পাল্টা এই শর্ত সামনে আনলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তেহরানের দাবিগুলো মূলত জুনে স্বাক্ষরিত একটি প্রাথমিক শান্তিচুক্তির শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে সেই চুক্তি পরে ভেঙে যায়।

ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্প বারবার অবস্থান পরিবর্তন করেছেন—কখনো সংঘাত আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন, আবার কখনো বলেছেন শান্তিচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, 'গত ৫০ বছরে তারা যে ক্ষয়ক্ষতি করেছে, তার জন্য আমরা অর্থ চাইব।' 

তিনি বলেন, এই ক্ষতিপূরণের আওতায় বিক্ষোভে নিহত বেসামরিক মানুষ এবং ওই অঞ্চলে নিহত মার্কিন সেনাদের বিষয়টিও থাকবে।

ট্রাম্প বলেন, 'যদি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে, তাহলে আমার মনে হয় ইরানকেই সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।'

ট্রাম্পের এসব দাবির পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জ্বালানি বাজারেও। সোমবার দিনের লেনদেন শেষে তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিটি কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও তীব্র হয়েছে।