কক্সবাজারের টেকনাফে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ১১জন। তবে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার নেমে এসেছে ৫০ শতাংশের নিচে। এতে উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ বছর টেকনাফে এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি পরীক্ষায় মোট ৫৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৪৬।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৭টি বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৭৭৫ জনের মধ্যে পাস করেছে ৮৪০ জন। পাসের হার ৪৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩০ জন।
অন্যদিকে, ১২টি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮৩৮ জনের মধ্যে ৭২৭ জন পাস করেছে। পাসের হার ৮৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন। কারিগরি শিক্ষায় ১১১ জনের মধ্যে ৭৩ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন।
এসএসসিতে সবচেয়ে বেশি জিপিএ-৫ পেয়েছে হ্নীলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৮ জন। টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৭ জন, সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন এবং শামলাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
উপজেলার ৩১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১টি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
পাসের হারে বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে টেকনাফ বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭৭ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়, যেখানে পাসের হার ৭১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। তবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পাসের হার ৩০ শতাংশেরও নিচে নেমে এসেছে। শাহপরীর দ্বীপ হাজী বশির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৯ শতাংশ, সেন্ট মার্টিন বিএন ইসলামিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২৭ শতাংশ এবং হোয়াইক্যং আল-আছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়ে কক্সবাজার সিটি কলেজের প্রভাষক এহসান উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি, ঝরে পড়া, শিক্ষকসংকট, অভিভাবকদের আর্থসামাজিক পরিস্থিতি ও শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোনো কারণকে দায়ী করার আগে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
তার মতে, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহায়তা, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা এবং কম ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
টেকনাফ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সিসি ক্যামেরা নিয়ে আতঙ্ক, পড়াশোনায় অমনোযোগিতা এবং কিছু প্রতিষ্ঠানপ্রধানের অবহেলার বিষয়টি ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে। আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতির উন্নয়নে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামীতে ফলাফল আরও সন্তোষজনক হবে বলে আশা করছেন তিনি।