ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ বাহিনীর হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। হামলায় উত্তর কোরিয়ার তৈরি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর নিশ্চিত করেছে।
এ ছাড়া ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক ও দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাতভর রুশ হামলায় আরও ছয়জন নিহত হয়েছেন। রাজধানী কিয়েভেও রুশ হামলায় কয়েকটি স্থানে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।
জাপোরিঝঝিয়ার গভর্নর ইভান ফেদোরভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগুনে জ্বলতে থাকা ভবন ও যানবাহনের ছবি প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় আরও ২০ জন আহত হয়েছেন।
টেলিগ্রামে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘শহরটিতে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, জিরকন (জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র) এবং কেএবি (নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদী বোমা) দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।’
তিনি এই হামলাকে ‘বেসামরিক অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চালানো একটি নৃশংস হামলা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে জাপোরিঝঝিয়ায় হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে রাশিয়া তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী কিয়েভে নোভা পোশতা প্রতিষ্ঠানের একটি পণ্য বাছাই ও বিতরণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। রুশ মন্ত্রণালয়ের দাবি, সেখানে ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জামসহ সামরিক ও বেসামরিক—উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা হতো।
এ ছাড়া রুশ বাহিনী জাপোরিঝঝিয়ায় একটি ধাতব কারখানায়ও হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। কারখানাটিতে তৈরি ফ্ল্যাট-রোলড স্টিল ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করত বলে দাবি করেছে মস্কো।
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের চার বছর পরও যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘ এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই ইউক্রেনীয়। ধ্বংস হয়েছে বহু শহর ও জনপদ এবং লাখো ইউক্রেনীয়কে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে হয়েছে।