প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ বাড়াতে এবং বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি জোরদার করার লক্ষ্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সাথে একটি ক্রেডিট গ্যারান্টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। ক্রেডিট এনহ্যান্সমেন্ট স্কিম (সিইএস)-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তির অধীনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮০০ কোটি টাকার বার্ষিক অর্থায়ন সুবিধা পেয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। এই অর্থ ব্যাংকটি পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থা এবং ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর (এমএফআই) মাধ্যমে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে ঋণ দেবে। ক্রেডিট গ্যারান্টি সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত মনিটরিং ও সুপারভিশন কাঠামোর মাধ্যমে এই অর্থায়ন সুবিধার বাস্তবায়ন তদারকি করবে পিকেএসএফ।
পিকেএসএফ-এর দেশব্যাপী চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র উদ্যোগে গ্যারান্টিযুক্ত অর্থায়ন সহজতর করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য পিকেএসএফ ১১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ১টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে মোট ২,৮০০ কোটি টাকার ১২টি ক্রেডিট গ্যারান্টি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
গত ২০ জুলাই ২০২৬ ঢাকায় পিকেএসএফের প্রধান কার্যালয়ে এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আব্দুল মোমেন এবং হেড অব এমএফআই অ্যান্ড এগ্রিকালচার ফাইন্যান্স তাপস কুমার রায়। পিকেএসএফ-এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. ফজলুল কাদের এবং ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. হাসান খালেদ।
উল্লেখ্য, এই তহবিল চালুর পর থেকেই ব্র্যাক ব্যাংক এতে অন্যতম শীর্ষ পারফর্মার হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। জুলাই ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ সালের মধ্যে ব্যাংকটি ২১টি সহযোগী ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই) মাধ্যমে ১,০৮২ কোটি টাকার গ্যারান্টিযুক্ত পোর্টফোলিওর বিপরীতে ৭০৫ কোটি টাকা বিতরণ করেছে, যা মোট পোর্টফোলিওর প্রায় ৬৫%। এর ফলে দেশের প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ অর্থায়ন সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে।
এই চুক্তির বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব এসএমই ব্যাংকিং সৈয়দ আব্দুল মোমেন বলেন, “প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত উদ্যোক্তাদের কাছে অর্থায়নের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া সবসময়ই ব্র্যাক ব্যাংকের মূল লক্ষ্য। পিকেএসএফ-এর সাথে আমাদের এই অংশীদারিত্ব একটি টেকসই রিস্ক-শেয়ারিং মডেলের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করবে, যা দেশে নতুন উদ্যোগের বিকাশ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”
বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় এসএমই ব্যাংক হিসেবে দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়াতে, সুবিধাবঞ্চিত উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে এবং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে ব্র্যাক ব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।