রাজনীতি নয়, মনেপ্রাণে ক্রীড়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কোকো: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না; তিনি ছিলেন আপাদমস্তক একজন ক্রীড়া সংগঠক।

ক্রীড়ার উন্নয়নে আরাফাত রহমান কোকোর অবদানের কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, ক্রীড়াবিদরা যাতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন এবং এর মাধ্যমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন, সে ধরনের ব্যবস্থা রাষ্ট্র ও সরকারকে করতে হবে।

বুধবার (১২ আগস্ট) আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন উপলক্ষে বনানী কবরস্থানে তাঁর কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকো জীবনে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত না হয়ে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করেছেন। ক্রীড়াবিদরা যাতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নিতে পারেন, সে ধরনের সুযোগ সৃষ্টির প্রত্যাশা ছিল তাঁর।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে। এর মাধ্যমে ক্রীড়াক্ষেত্রে আরাফাত রহমান কোকোর অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন হবে।

রিজভী বলেন, আজ এখানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত আছেন। আমি মনে করি, তিনি অত্যন্ত যোগ্য একজন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন। এসব কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হলেই আরাফাত রহমান কোকোর আত্মা শান্তি পাবে।

কোকোর স্মৃতিচারণ করে রিজভী বলেন, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মরদেহ দেশে আনার সময় তাঁর মা বেগম খালেদা জিয়া বন্দি ছিলেন। তাঁকে বালু ও কাঠের ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল এবং গোলমরিচের স্প্রে করা হয়েছিল।

ওই পরিস্থিতিতে মায়ের কোলে সন্তানের লাশ তুলে দেওয়া ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বিয়োগান্তক ঘটনা। পৃথিবীর সব বিয়োগান্তক ঘটনা ও ট্র্যাজেডিকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল এই মর্মান্তিক ঘটনা। মায়ের কোলে সন্তানের লাশ তুলে দেওয়া ছিল প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ, বলেন তিনি।

রিজভী অভিযোগ করেন, জনগণের মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনা কখনো মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে তাঁর পরিবারকে একের পর এক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তৎকালীন সরকার রাজনৈতিকভাবে এ পরিবারকে পর্যুদস্ত করতে এবং জনগণের মধ্যে তাদের জনপ্রিয়তা মুছে ফেলতে বিভিন্নভাবে হয়রানি, অপপ্রচার ও মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছিল। একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতা ধরে রাখার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এসব করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকার কারণে তাঁর পরিবারকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর দুই সন্তানও বিভিন্ন সময়ে বন্দিত্ব ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

রিজভী বলেন, আজ পরিস্থিতি বদলে গেছে। জনগণের ধাওয়া খেয়ে শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে। সেই তারেক রহমান-শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র-আজ দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, জনকল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন কার্যক্রম ক্ষমতা গ্রহণের দুই-তিন দিনের মধ্যেই বা শুরু থেকেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ছিল জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান। মুগ্ধ, ওয়াসিম, আবু সাঈদ, আহনাফসহ যাঁরা আত্মদান করেছেন, তাঁদের প্রত্যেকের আত্মত্যাগ মহিমান্বিত।

তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানসহ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের পেছনে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও রক্ত ও আত্মত্যাগ রয়েছে।

রিজভী অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে কোনো কোনো রাজনৈতিক দল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করার এবং মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদান মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।

এ ধরনের প্রচেষ্টা জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের জনগণ যেকোনো মূল্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করবে।

এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সদস্য রেজাউর করিম ফাহিম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু এবং বিএনপি নেতা কামাল জামাল মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।