কাঠের ব্রিজ ভেঙে নদীতে জামায়াত নেতাকর্মীরা, রক্ষা পেলেন এমপি

নীলফামারীর ডিমলায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের ব্রিজ পরিদর্শনে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার মুখে পড়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। সাঁকো পার হওয়ার সময় হঠাৎ সেতুটির একাংশ ভেঙে নদীতে পড়ে যান সঙ্গে থাকা কয়েকজন নেতাকর্মী। 

তবে অল্পের জন্য রক্ষা পান নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার। এতে সংসদ সদস্যের সঙ্গে থাকা তিনজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

বুধবার (১২ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ডিমলা উপজেলার ৩ নম্বর ডিমলা সদর ইউনিয়ন ও ৬ নম্বর নাউতারা ইউনিয়নের সীমানা সংলগ্ন নটাবাড়ী গ্রামের নাউতারা নদীর ওপর ব্রিজটি পরিদর্শনে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নটাবাড়ী গ্রামের সঙ্গে নাউতারা ইউনিয়ন ও ডিমলা সদর ইউনিয়নকে সংযোগকারী কাঠের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবির মুখে বুধবার বেলা ১১টার দিকে সেতুটির বর্তমান অবস্থা স্বচক্ষে দেখতে এবং পরবর্তীতে নতুন ব্রিজ নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে যান নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার। এ সময় উপজেলা আমিরসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও গ্রামবাসী তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে অতিরিক্ত মানুষের চাপে সেতুটির একটি অংশ হঠাৎ মচকে ভেঙে পড়ে। এতে তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকজন নেতাকর্মী ভারসাম্য হারিয়ে নদীর ধারে পড়ে যান। তবে স্থানীয় ও উপস্থিত সফরসঙ্গীদের দ্রুত তৎপরতায় সংসদ সদস্য নিরাপদে সরে যেতে সক্ষম হন। দুর্ঘটনায় কয়েকজন সাময়িকভাবে আঘাত পেলেও গুরুতর কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ইসলাম বলেন, ‘এমপি মহোদয় আমাদের এলাকার কাঠের ব্রিজটি পরিদর্শনের জন্য ব্রিজের ওপর ওঠার পর লোকজন বেশি হওয়ায় হঠাৎ করে ব্রিজটি ভেঙে যায়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন নিচে পড়ে যান।’

অপর বাসিন্দা আজিমুল ইসলাম বলেন, ‘এই ব্রিজটির ওপর দিয়ে শত শত স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পারাপার করেন। আজ সংসদ সদস্য পরিদর্শনে এসে নিজেই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হলেন। দ্রুত এখানে একটি পাকা সেতু তৈরির দাবি জানাই।’

নাউতারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক ইমতিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘ব্রিজটি স্থানীয়রা নিজেদের অর্থায়নে তৈরি করেছেন। আজ এমপি সেখানে পরিদর্শনে গিয়ে সেটি ভেঙে পড়ে।’

ডিমলা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মজিবুর রহমান জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো ও জরাজীর্ণ সেতু হওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে এমপি মহোদয় সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদে আছেন। সেখানে কয়েকজন পড়ে গিয়ে তাঁদের জামাকাপড় ছিঁড়ে গেছে এবং তিনজন আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার মুঠোফোনে বলেন, ‘এলাকাবাসী নিজেদের অর্থায়নে একটি কাঠের ব্রিজ তৈরি করেছে। আমি এবং আমার সঙ্গে নেতাকর্মীরা মিলে সেটি পরিদর্শন করতে গিয়েছিলাম। ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা ওঠার পর ব্রিজের পেছনের অংশ ভেঙে পড়ে।

আজকের এই ঘটনার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হলো, গ্রামের মানুষ কত কষ্টে যাতায়াত করছেন। সেখানে সরকারি অর্থায়নে নটাবাড়ী-নাউতারা নদীর ওপর দ্রুত একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণ ও কাঁচা রাস্তা পাকাকরণে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হবে।’