নীলফামারীতে তিস্তার ভাঙন ঠেকাতে পাউবোর উদ্যোগ

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:১২ পিএম

দিক পরিবর্তন করে তিস্তা নদী ডানতীরে সরে আসায় এবার প্রধান বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভেন্ডাবাড়ি নামক স্থানে এই ভাঙন শুরু হয়।

এই ভাঙন দেখা দেয়ায় প্রধান বাঁধের ৭ কিলোমিটার হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর ডানদিকে সরে এসে পানির ধাক্কায় বাঁধের মাটি ভেঙ্গে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে।

এতে তিস্তার ডানতীরে অবস্থিত ১ নম্বর স্পার এবং ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের পাঁচশতাধিক পরিবার চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া পাশ্ববর্তী এজেলার জলঢাকা উপজেলার ডাউয়াবাড়ি ও গোলমুন্ডা ইউনিয়ন দুটি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পাউবোর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিস্তা ব্যারাজ থেকে রংপুরের কাউনিয়া পর্যন্ত ডানতীরের প্রধান বাঁধটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮০ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ডানদিকে সরে আসায় পুরো প্রধান বাঁধ এলাকাটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৭ কিলোমিটার ভাঙন দেখা দিয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশন জিও ব্যাগ এবং জিও টিউব ফেলে ভাঙন রোধে কাজ করছে।

জানা যায়, এরআগে তিস্তা নদীর পানি কয়েকদফায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে। তবে গত ২২ জুলাই নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলে সেদিন পানির তীব্র চাপ ও নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ছাতুনামা, কেল্লাপাড়া ও ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন শুরু হয়। এরপর পানি কমে আসলে ১৪ দিনের ব্যবধানে গত ৫ আগস্ট তিস্তার পানি আবারও হঠাৎ বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেই চাপের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ডানতীরের প্রধান বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হওয়ায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের মধ্যে।

পাউবো ডালিয়া পয়েন্টের পানি পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকাল ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে, অর্থাৎ ৫১ দশমিক ৮৮ মিটার সমতলে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। এর আগে এদিন সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ৫১.৯৫ মিটার এবং বিকাল ৩টায় ৫১ দশমিক ৯০ মিটার। এছাড়া গত বৃহস্পতিবার(৬ আগস্ট) রাত ৯টায় পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৩ মিটার। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, গত দুই দিন ধরে তিস্তার পানি বিপৎসীমার বরাবর প্রবাহিত হচ্ছিল। শুক্রবার সকালে পানি কমতে শুরু করার পর নদীর তীব্র স্রোত ভেন্ডাবাড়ি এলাকায় ডানতীরের প্রধান বাঁধে সরাসরি আঘাত হানতে শুরু করে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জরুরী ভিত্তিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করছি।

তিনি আরও জানান, তিস্তা নদী ওই এলাকায় হঠাৎ করে গতিপথ পরিবর্তন করে আসায় প্রধান বাঁধে আঘাত হানছে। বর্তমানে ৭ কিলোমিটার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানীর ভেন্ডাবাড়ি এবং জলঢাকা উপজেলার ডাউায়াবাড়ি ও গোলমুন্ডা ইউনিয়ন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আমরা ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। 

এবিষয়ে ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, হঠাৎ তিস্তা নদী ডানতীরে সরে এসে প্রধান বাঁধে আঘাত করতে শুরু করেছে। ১ নম্বর স্পার ও ভেন্ডাবাড়িসহ প্রায় ৭ কিলোমিটারে নদীর আঘাতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে ভেন্ডাবাড়ি গ্রামের প্রায় পাঁচশত পরিবারের বসতবাড়ি এবং শত শত হেক্টর ফসলি জমি তিস্তার পানিতে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সকালে ঘটনাস্থলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এসে জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ঠিকাদার শাহিনুর হক জানান, শুক্রবার ভেন্ডাবাড়ি ১ নম্বর স্পার প্রধান বাঁধে ভাঙন দেখা দিলে জরুরী ভিত্তিতে সেখানে জিওটিউব ও জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ভেন্ডাবাড়ি স্পার এলাকার কৃষক শরিফুল আলী বলেন, তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে ডানদিকে চলে আসায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। সামনে যদি আরেক দফা বড় বন্যা আসে, তাহলে এ এলাকার একটি গ্রামও টিকে থাকবে না।

অপর বাসিন্দা খলিলুর রহমান বলেন, নদী যেভাবে ডানতীরে সরে এসে আঘাত হেনে বাঁধ ভেঙ্গে দিচ্ছে, এতে আমাদের রাতে ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এই বাঁধ ভেঙ্গে গেলে ভেন্ডাবাড়ি, ডাউয়াবাড়ি, গোলমুন্ডার শত শত ফসলি জমি তলিয়ে যাবে। 

 

 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত