এলআরএফের অবস্থান কর্মসূচিতে সাংবাদিক নেতারা

‘আদালতের তথ্য জানানোর অধিকার থেকে বঞ্চিত করা দুর্ভাগ্যজনক’   

আদালতের তথ্য জানা ও জানানোর অধিকার থেকে গণমাধ্যম ও জনগণকে বঞ্চিত করা দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক নেতারা। 

তারা অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগসহ হাইকোর্ট বিভাগের বিভিন্ন এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়েছেন। গত জানুয়ারি থেকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগসহ হাইকোর্টের বিভিন্ন এজলাসে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশ করতে না দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার দুপুর পৌনে ১২টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের মূল ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালিত হয়। 

সাংবাদিক নেতারা অবিলম্বে এজলাসে প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দিতে প্রধান বিচারপতির প্রতি অনুরোধ জানান। আইন, বিচার, সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। 

এতে সম্পাদক পরিষদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে), ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্র্যাব) সহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দিয়ে এলআরএফ’র দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।  
 
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর তার বক্তব্যে বলেন, ‘একটি রক্তাক্ত গণঅভ্যত্থানের পর লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অধিকার ও সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা। এই সময়ে আদালতের কার্যক্রম গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষকে জানানোর কথা ছিল। সংবিধানেও উন্মুক্ত আদালতে বিচারকাজ পরিচালনার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি, বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে তথ্য জানানোর অধিকার থেকে জনগণকে বঞ্চিত করছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক।’ 

তিনি বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন সরকার যখন বিচারবিভাগের টুটি চেপে ধরতো তখন সংবাদমাধ্যম বিচারবিভাগের পাশে দাড়িয়েছে। এখন সেই সংবাদ মাধ্যমের দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে যখন বাধার সৃষ্টি হয়, তখন বিচার বিভাগের গণতন্ত্র পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।’ প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আপনারা সংবিধান লঙ্ঘণের অভিযোগে নিজেদের অভিযুক্ত করবেন না।’ 

ডিআরইউ’র সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ‘এজলাসে গণমাধ্যমকে প্রবেশ করতে না দিলে জাতির সন্দেহ জাগে। আমরা বাক স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতার জন্য দীর্ঘদিন লড়াই করেছি। আমাদের লেখায়, পেশাগত কাজে বাধার সৃষ্টি করলে আমরা তা মেনে নেব না।’ আবু সালেহ আকন বলেন,  ‘আমরা চাই, এই প্রধান বিচারপতির মাধ্যমেই আমাদের বাক স্বাধীনতা, লেখার স্বাধীনতা আরও সুদঢ় হবে। তিনি তা না করলে আমরা আজ ফুটপাতে দাঁড়িয়েছি, পরবর্তীতে আরও বড় কর্মসূচী পালন করবো। তখন কিন্তু আমাদের কোন দায় দিতে পারবেন না।’ 

ডিইউজে’র সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘অধিকার বঞ্চিত মানুষের শেষ আশ্রয় আদালত। কিন্তু আদালত নিজেই যখন মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, তখন মানুষ কোথায় যাবে? এই শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মধ্য দিয়ে যদি অধিকার আদায় না হয়, তাহলে আমরা রাজপথে নামবো।’ প্রধান বিচারপতির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তথ্যের অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন। অন্যথায় আমাদের আরও কঠিন কর্মসূচি নিতে হবে। আমাদেরকে সেদিকে যেতে বাধ্য করবেন না।’ 

কর্মসূচীতে আরও বক্তব্য দেন ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক এমএম বাদশাহ, রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশনের (র‌্যাক) সভাপতি শাফি উদ্দীন আহমদ, রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল (কাজী জেবেল), এলআরএফের সাবেক সভাপতি ও ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক সালেহ উদ্দিন, আরটিভির হেড অব নিউজ ও ডিআরইউ’র সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, এলআরএফ’র সাবেক সভাপতি এম বদি-উজ-জামান, আশুতোষ সরকার, ওয়াকিল আহমেদ হিরন, শামীমা আক্তার, এলআরএফের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, দিদারুল আলম, সিনিয়র সদস্য শংকর মৈত্র, সাজেদুল হক প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে এলআরএফের সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, এই কর্মসূচীর পরেও দাবি মানা না হলে শিগগিরই আপিল বিভাগের বিচারকক্ষে প্রবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচীতে সঞ্চালনা করেন এলআরএফ’র সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্না। 

এ সময় সংগঠনের সহ-সভাপতি আবু সালেহ রনি, যুগ্মসম্পাদক তানভীর আহমেদ, অর্থ সম্পাদক মনজুর হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ আল আমীন, দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল আলম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জাহিদুল বাশার, প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌসী মানু, কার্যনির্বাহী সদস্য আসাদুর রহমান, এসএম নূর মোহাম্মদ ও রেজাউল করিম প্রমুখ অংশ নেন।