সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় স্বামী, স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে হত্যা ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তিন জনকে হত্যার অভিযোগে আটক করা হয়েছে বাবুল মিয়া (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে। বাবুল একাই একে একে তিনজনকে ছুরি দিয়ে হত্যা করেছে। আটক বাবুল পুলিশের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করেছে এবং হত্যাকাণ্ডের কারণও জানিয়েছে বলে সাংবাদিকদের বলেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এসএমপি কমিশনার গণমাধ্যমকে বলেন, কাজের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বাবুল তিন জনকে খুন করেছে।
বুধবার দুপুরে মিতালী ১১১ নম্বর বাসা থেকে বাসার মালিক আবদুস সাত্তার (৮৫), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৫) ও কাজের মেয়ে তাহমিনার (১৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সন্ধ্যায় এসএমপি কমিশনার সংক্ষিপ্ত প্রেসব্রিফিংয়ে বলেন, তিন জনকে খুনের ঘটনায় বাবুল মিয়া নামের একজনকে বিকাল ৩টার দিকে রায়নগর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে। বাবুল পেশায় রং মিস্ত্রি ও মাঝেমধ্যে কসাইয়ের কাজও করেন। বাবুল মিয়া রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনীর বাসিন্দা। তার বাবার নাম নূর মিয়া।
এসএমপি কমিশনার বলেন, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। পুলিশ কমিশনার বলেন, নিহত আবদুস সাত্তার ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। ১৫ থেকে ২০ দিন আগে তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবুল মিয়া একটি ছুরি সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে গৃহকর্মী তাহমিনা দরজা খুলে তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে তাহমিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়াতে চান এবং এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে বাবুল মিয়া ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন। চিৎকার শুনে সুরাইয়া বেগম এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরিকাঘাত করেন বাবুল। এরপর আবদুস সাত্তার এগিয়ে গেলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বাবুল। এতে তিন জনেরই মৃত্যু হয়। পরে বাবুল মিয়া বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান এবং অদূরে বনজঙ্গলে ভরপুর একটি খালি প্লটে ছুরিটি ফেলে দেন। পুলিশ কমিশনার জানান, ওই ছুরি উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।