বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগাতে এখানকার বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল (ইউএসবিবিসি)। গতকাল বুধবার ঢাকায় শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকে ইউএসবিবিসি এ আগ্রহের কথা জানায়।
ইউএসবিবিসি প্রেসিডেন্ট অতুল কেশাপ ও উপদেষ্টা নিশা দেশাই বিসওয়াল বৈঠকগুলোয় ব্যবসায়ীদের এ প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্ব দেন। প্রতিনিধি দলটি চারদিনের সফরে মঙ্গলবার ঢাকা এসেছে।
অতুল কেশাপ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে কাউন্সিলের আগ্রহের কথা জানান।
শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে ইউএসবিবিসির বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় শিল্প মন্ত্রণালয়ে। বৈঠকের পর শিল্পমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের লক্ষ্যে পৌঁছাতে এখানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তাদের আশ^স্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশে ব্যবসা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো যেসব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের বাণিজ্যনীতি, রপ্তানিনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও ই-কমার্সসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, পাট, চামড়া, জাহাজ নির্মাণ ও শিপ রিসাইক্লিং খাতে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে। এসব খাতকে মাল্টি বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি খাতে পরিণত করার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো আগামী মাসে প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার কথাও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে।
ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী বলেন, জ্বালানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ এবং ব্যাংকিং খাতে প্রয়োজনীয় উদারীকরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে আইটি কোম্পানি ও ফ্রিল্যান্সারদের ডিজিটাল ও পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহারের সুযোগ আরো সহজ হবে বলে তিনি জানান।
ট্রেড লাইসেন্সের জটিলতা প্রসঙ্গে শিল্পমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থান থেকে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফি অনলাইনে জমা দিয়ে সেখান থেকেই ট্রেড লাইসেন্স ডাউনলোড করা যাবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে সময় নষ্ট করতে হবে না। এ নিয়ে কাজ চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই এর বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে। বিভিন্ন লাইসেন্স, পারমিট ও ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে যেসব অপ্রয়োজনীয় ওভারল্যাপিং রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সরিয়ে ফেলা হবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। উপদেষ্টা প্রতিনিধিদলকে বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে অর্থনৈতিক রূপান্তর ও নতুন সম্ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় অতিক্রম করছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
উভয়পক্ষ পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ ও অংশীদারত্ব আরও গভীর করার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার ওপর জোর দেয়।