এক জিকিরে ৪ উপকার

আল্লাহর জিকির মুমিনের হৃদয়কে প্রশান্ত করে। জিকিরের মাধ্যমে বান্দা তার রবকে স্মরণ করে। নিজের অসহায়ত্বের কথা মনে করে। আল্লাহর ক্ষমতা ও মহত্ত্বের স্বীকৃতি দেয়। হাদিসে এমন কিছু জিকিরের কথা এসেছে, যার সওয়াব অনেক বেশি। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুওয়া আলা কুল্লি শায়ইন কাদির’ পাঠ করা।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার এই জিকির পাঠ করবে, তার জন্য দশজন গোলাম মুক্ত করার সমপরিমাণ সওয়াব লেখা হবে। তার আমলনামায় ১০০টি নেকি লেখা হবে। তার ১০০টি গুনাহ মুছে দেওয়া হবে। সেদিন সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তান থেকে সুরক্ষিত থাকবে। তার চেয়ে অধিক ফজিলতপূর্ণ আমল আর কারও হবে না। তবে সেই ব্যক্তি ছাড়া, যে ব্যক্তি এ আমল তার চেয়েও অধিক করবে। (সহিহ বুখারি)

একটি ছোট আমল। কিন্তু এর প্রতিদান অনেক বড়। এতে বান্দার জন্য একসঙ্গে কয়েকটি বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা রয়েছে। ১০ জন গোলাম মুক্ত করার সওয়াব পাওয়া নিঃসন্দেহে বিরাট মর্যাদার বিষয়। পাশাপাশি ১০০ নেকি লেখা এবং ১০০ গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদও রয়েছে।

এই জিকিরের আরেকটি বড় ফজিলত হলো শয়তান থেকে সুরক্ষা। হাদিসে এসেছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সে শয়তানের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ থাকবে। একজন মুমিনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শয়তান মানুষকে নানা উপায়ে গুনাহের দিকে টেনে নেয়। আল্লাহর জিকির সেই প্ররোচনা থেকে বাঁচার অন্যতম মাধ্যম।

প্রতিদিন ১০০ বার এই জিকির পাঠ করা কঠিন নয়। দিনের ব্যস্ততার মধ্যেও এর জন্য কিছু সময় বের করা যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সুবিধামতো তা পড়া সম্ভব। নিয়মিত এই আমল হৃদয়ে আল্লাহর স্মরণ জাগ্রত রাখবে। আমলনামা সমৃদ্ধ করবে। গুনাহ থেকে দূরে থাকার শক্তি দেবে।