পৃথিবীর একমাত্র স্বাধীন ও সৃষ্টিশীল পেশা কৃষি...

শিক্ষকতার নিরাপদ চাকরি ছেড়ে মাটির টানে ফিরে আসা এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হলেও, মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেনের কাছে এটি ছিল এক ধরনের মুক্তি। কৃষিকে তিনি শুধু পেশা হিসেবে নয়, স্বাধীনতা, সৃজনশীলতা এবং স্বনির্ভরতার পথ হিসেবে দেখেন। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা, সমাজের বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাস সবকিছু মিলিয়ে গড়ে উঠেছে তার এই ভিন্নধর্মী জীবনদর্শন। তার সঙ্গে কথা বলে সাক্ষাৎকার নিয়েছে অনিন্দ্য নাহার হাবীব

প্রশ্ন : আপনার জীবন দর্শন নিয়ে বলবেন।

উত্তর : সৃষ্টিকর্তা অগণিত জীব ও অনুজীবের মাধ্যমে বিশাল সৃষ্টি জগতের ভারসাম্য রক্ষা করে কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের সহযোগিতায় অধিকাংশ সৃষ্ট জীবের আহারের সংস্থান করেন। অবিনশ^র জগতে ক্ষণস্থায়ী জীবনের কিঞ্চিত স্মৃতি ধরে রাখার একমাত্র ক্ষেত্র হলো কৃষি, যেখানে স্রষ্টার সান্নিধ্যে কৃষকের আলতো হাতের পরশে উৎপাদিত ফল-ফসলের দিগন্তজোড়া মাঠ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে নিজেকে বিলিয়ে দেয় নব সৃষ্টির মহানন্দে। সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে কৃষিকাজের মাধ্যমে নতুন নতুন ফসল উৎপাদন করে সব জীবের নিরাপদ বাসস্থান হিসেবে পৃথিবীকে গড়ে তোলার ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।

প্রশ্ন : আপনার শখ, গুণ, দোষ নিয়ে বলবেন।

উত্তর : শখ নতুন নতুন ফসলের জাত সংগ্রহ ও নিরাপদভাবে উৎপাদন।

গুণ কাজের চাপে এ জীবনে কোনো প্রকার গুণ খুঁজে পেলাম না।

দোষ মানুষ যখন নিজে কাজ না করে অন্যকে কাজ করার জন্য প্ররোচিত করে, তখন নিজেকে মানিয়ে নেওয়া খুবই কষ্ট হয়।

প্রশ্ন : শিক্ষকতার জীবন ছেড়ে আসা : আপনি ১৯৯৩ সালে একজন ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। একটি নিরাপদ চাকরি ছেড়ে দিয়ে কৃষিতে আসার সিদ্ধান্তটি কেমন ছিল?

উত্তর : গতানুগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ১৯৯৩ সালে সিলেটের একটি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মময় জীবনের সূচনা। প্রতিটি শিক্ষার্থীর সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে নিজস্ব স্বত্বা ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে নিজেকে যেন বিলিয়ে দিতে পারে এই অভিপ্রায়ে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের স্বমহিমায় বিকশিত করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। কে শুনে কার কথা সবার প্রত্যাশা চাকরি। নিজের মেধা-স্বত্বার বিকাশ ঘটিয়ে সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার পরিবর্তে চাকরির প্রতি সমাজ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর অতি আগ্রহের কারণে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে যে, অর্থ উপার্জনের পথ হলো শিক্ষকতা। যেখানে নিজের এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পরিবর্তে ছকবাঁধা নিয়মে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়, সেখানে সৃষ্টিশীল স্বাধীন স্বত্বাধিকারী ব্যক্তির টিকে থাকা খুবই অস্বস্তিকর। পৃথিবীর একমাত্র স্বাধীন ও সৃষ্টিশীল পেশা হলো কৃষি, যেখানে সৃষ্টিশীল কাজের মাধ্যমে নিজের মেধা বিকাশের পাশাপাশি স্বনির্ভর সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সম্ভব এই দৃঢ় বিশ্বাসে শিক্ষকতা ছেড়ে দিয়ে কৃষিকাজের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের ব্রত নিয়ে সশরীরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কৃষিকাজের সূচনা করেন। বিশেষ করে চাকরিজীবনকে সবাই নিরাপদ জীবন মনে করেন, আসলে চাকরিজীবন কোনোভাবেই নিরাপদ জীবন নয়; চাকরি জীবন হলো পরাধীন জীবন, যেখানে কর্র্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণে চলতে হয় সারা জীবন নিজের ইচ্ছা ও স্বাধীনতা মূল্যহীন। কাজ করার শক্তি ও সামর্থ্য থাকার পরও ছকবাঁধা নির্দিষ্ট সময়ের পর চলে আসতে হয় বাধ্যতামূলকভাবে। তাহলে চাকরিজীবন কীভাবে নিরাপদ জীবন? মূলত চাকরি জীবন গোলামি জীবন।

প্রশ্ন : পরিবার ও সমাজের প্রতিক্রিয়া কেমন ছিল?

উত্তর : শিক্ষকতার মতো একটি পেশা ছেড়ে কৃষিকাজে আত্মনিয়োগ করা সত্যিকার অর্থেই ছিল খুবই সাহসী ও ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে সমাজের প্রতি বিদ্রোহ করে নিজেকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে এককভাবে স্বাধীন ও সৃষ্টিশীল কাজের জন্য কঠিন সংগ্রামে লিপ্ত হওয়া। সমাজ আমাকে অপবাদ দিয়েছে, পরিবার কিন্তু সমাজের বাইরে নয়। সব সৃষ্ট জীবের মৌলিক চাহিদার মধ্যে প্রধান চাহিদা হলো খাদ্য, যার বিকল্প কিছু নেই আর কৃষকের উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ফল-ফসলের মাধ্যমেই অধিকাংশ সৃষ্ট জীবের খাদ্যের চাহিদা পূরণ করা হয়। সুতরাং বেঁচে থাকার জন্য কৃষিকাজ করতেই হবে এর বিকল্প কিছু নেই। এই বাস্তব সত্যটি হৃদয়ে ধারণ করে শুরু করি নিজেকে বিকশিত করার সৃষ্টিশীল পেশা কৃষি। এমনকি এখনো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দেশের অধিকাংশ লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে কৃষিতে।

প্রশ্ন : প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আপনার উপলব্ধি কীভাবে এলো?

উত্তর : ব্রিটিশ সরকার তাদের রাজকার্য পরিচালনার জন্য আমাদের দেশে যে শিক্ষাব্যবস্থার প্রচলন করেছিলেন, সেখান থেকে আমরা এখনো বের হতে পারিনি। নিজের মেধা বিকাশের পরিবর্তে যেকোনোভাবে সার্টিফিকেট অর্জন করে নিজস্ব স্বত্বা বিসর্জন দিয়ে অন্যের অধীনে নিজেকে পরিচালিত করার নাগরিক তৈরি করাই হচ্ছে বর্তমান শিক্ষা। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা চাকরিনির্ভর হযবরল শিক্ষা ব্যবস্থা। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করে কেউ পুলিশ বিভাগে চাকরি করছে, ইতিহাসের উচ্চ ডিগ্রিধারী ব্যাংকে বসে হিসাব করছে, ডাক্তার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হচ্ছেন মোট কথা আমাদের শিক্ষা জাতিকে সর্বগুণে গুণান্বিত করার মহাপ্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। আমার বিশ্বাস, শিক্ষা হলো ব্যক্তির সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে সমাজের কল্যাণে তার নিজস্ব প্রতিভা অনুযায়ী কর্মক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হলেও এখনো পর্যন্ত সেই শিক্ষা পদ্ধতির আমূল কোনো পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষা নিয়ে বিরামহীনভাবে সভা-সেমিনার অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গ সঙ্গে নতুন নতুন নীতিমালা প্রণীত হচ্ছে, কিন্তু দিন শেষে উদ্দেশ্য একটাই যে কোনো মূল্যে চাকরি।

প্রশ্ন : জমিদানের পেছনের চিন্তা কী ছিল?

উত্তর : আমরা মানি আর না মানি, বিশ্বাস করি বা না করি পৃথিবীতে মানুষের আগমন শূন্য হাতে, প্রস্থানও শূন্য হাতে। সামান্য কয়েক দিনের কার্যকলাপের স্মৃতিচিহ্ন রয়ে যায় পৃথিবীতে আর ফলাফলের হিসাব হবে মাওলার আদালতে। ঘূর্ণায়মান পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে প্রত্যেক মানুষের উচিত পরিবর্তিত সুন্দর পৃথিবীর কল্যাণে যার যার অবস্থান থেকে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া। সমাজের কল্যাণে কিঞ্চিত পরিবর্তনের লক্ষ্যে ৫ বিঘা জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় ‘মহিষমারা কলেজ’, যেখানে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি সিলেবাসের বাইরে শিক্ষার্থীদের সশরীরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর অভিপ্রায়ে পরিচালিত হচ্ছে ‘উৎপাদনমুখী শিক্ষা’।

প্রশ্ন : এই কলেজের শিক্ষা পদ্ধতি কীভাবে কাজ করে?

উত্তর : মহিষমারা কলেজের শিক্ষা পদ্ধতি কিছুটা হলেও ব্যতিক্রমধর্মী। প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি সিলেবাসের বাইরে পরিচালিত হচ্ছে ‘উৎপাদনমুখী শিক্ষা’, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তোমার নিজের খাদ্য যেমন বিকল্প অন্য কেউ খেতে পারে না, তেমনি তোমার খাদ্যও অন্য কেউ উৎপাদন করবে না। অর্থাৎ তোমার হাত দিয়ে যদি মুখে ভাত দেওয়ার শক্তি থাকে, তাহলে সেই হাতের শক্তি দিয়ে তোমার নিজের খাদ্য তোমাকেই উৎপাদন করতে হবে। উৎপাদনমুখী শিক্ষার মূল থিম হচ্ছে ‘আমি একটি কাজ করি’। আমাদের দেশে প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কৃষিসংশ্লিষ্ট কাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। উৎপাদনমুখী শিক্ষার মাধ্যমে মহিষমারা কলেজের শিক্ষার্থীদের মৌসুমভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ফসল জৈব পদ্ধতিতে নিরাপদভাবে উৎপাদনের কলাকৌশল হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রত্যেককে বাড়িতে উৎপাদনের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও বাড়িতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি বিপণন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ওপরও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। মোট কথা, উৎপাদনমুখী শিক্ষার সিলেবাস উন্মুক্ত যে যে কাজ করে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, তাকে সেই কাজেই উৎসাহ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়।

প্রশ্ন : শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আপনি কীভাবে দেখেন?

উত্তর : আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, উৎপাদনমুখী শিক্ষার আলোকে যখন একজন শিক্ষার্থী কোনো একটি কাজের প্রতি নিজ থেকে আগ্রহী হয়ে ওঠে, ভবিষ্যৎ জীবনে তার মেধার বিকাশ ঘটিয়ে অবশ্যই নিজেকে স্বাধীন ও স্বনির্ভর নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

প্রশ্ন : স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবন নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কী?

উত্তর : কৃষি একটি সৃজনশীল উন্মুক্ত পেশা। এখানে ব্যক্তিগত ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটিয়ে নিজের লাভ-লোকসানের হিসাব করে যে কোনো সময় যেকোনো কাজ করার অবাধ স্বাধীনতা রয়েছে। ব্যক্তি তার নিজের ইচ্ছামতো নিজেকে পরিচালিত করতে পারে।

প্রশ্ন : স্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তিতে এর প্রভাব কী?

উত্তর : স্বাস্থ্য ও মানসিক শান্তি একে অপরের পরিপূরক। সুস্বাস্থ্যের অধিকারী না হলে কখনো মানসিক শান্তি পাওয়া যায় না। প্রকৃতির নির্মল পরিবেশ, নিয়মিত সুষম ও পুষ্টিকর খাবার, শারীরিক ব্যায়ামের মতো সুযোগ-সুবিধা একমাত্র কৃষিকাজের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রশ্ন : বিনোদনের ভিন্ন রূপ হিসেবে আপনি কী দেখেন?

উত্তর : বসন্তের কোকিলের কুহু ডাক, বউকথাকও পাখির মায়াবী টান, দোয়েল, কোয়েল, ময়না, টিয়ার আহ্বান, সাঁঝের বেলায় ঝিঁঝিঁ পোকার গুঞ্জন আর বনের ধারে পাহাড়ি ঝর্ণার কলতানে মন মজে যায় নির্মল আনন্দে। স্বচ্ছ নির্মল পরিবেশে প্রকৃত বিনোদনের জন্য প্রয়োজন প্রকৃতির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলা যা কৃষিকাজের মাধ্যমেই সম্ভব।

প্রশ্ন : চাকরির পেছনে না ছোটা বিষয়ে আপনার

মতামত কী?

উত্তর : ছকবাঁধা নিয়ন্ত্রিত জীবন হলো চাকরিজীবন, যেখানে নিজের স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই। সারাটা জীবন নির্দিষ্ট ছকের মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ করে চলতে হয়। স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য দরকার স্বাধীন পেশা আর পৃথিবীর একমাত্র স্বাধীন পেশা হলো কৃষি।

প্রশ্ন : কৃষিকে ক্যারিয়ার হিসেবে কীভাবে দেখেন?

উত্তর : সূর্য যেমন অন্ধকার দূর করে পৃথিবীকে আলোকিত করে সব প্রাণীর বসবাসের উপযোগী করে তোলে, তেমনি কৃষির মাধ্যমে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ফল-ফসল অধিকাংশ প্রাণীর বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের চাহিদা নিশ্চিত করে। পৃথিবীর প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। স্বাধীন, স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধিশালী পেশা হলো কৃষি।

প্রশ্ন : আগামী দিনের স্বপ্ন কী?

উত্তর : মুসলিম পর্যটক ইবনে বতুতা এ দেশকে প্রাচুর্যে ভরা নরক হিসেবে উল্লেখ করেন, চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাংয়ের বর্ণনায় এ দেশের প্রাচুর্যময় কৃষির প্রমাণ পাওয়া যায়। সুদূর প্রাচীনকাল থেকেই আমাদের কৃষি সর্ব দিক দিয়ে সমৃদ্ধ ছিল। এ দেশের প্রাচুর্যময় সম্পদের লোভে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশের শাসকশ্রেণির লোলুপ দৃষ্টিতে পড়ে বারবার এ দেশের স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। যুগে যুগে শাসকশ্রেণির শোষণের শিকার হয়ে এ দেশের কৃষক সমাজ ক্রমে কৃষির পরিবর্তে অন্য পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী স্বনির্ভর কৃষির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে। উৎপাদনমুখী শিক্ষার আলোকে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার মহিষমারা কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে আমাদের ঐতিহ্যবাহী স্বনির্ভর কৃষির হারানো গৌরব উদ্ধারের সংগ্রাম। বাংলার কৃষির অনুকরণে পরিচালিত হবে সারা বিশ্বের কৃষি।