অভাব-অনটন কিংবা পারিবারিক কোনো সংকটই দমাতে পারেনি অদম্য মেধাবী আলেয়া বেগম শীতুলকে। বাবার পক্ষাঘাত ও সংসারের তীব্র টানাপোড়েন উপেক্ষা করে পড়াশোনা চালিয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে।
শীতুল চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার মগধরা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং চার ভাইবোনের মধ্যে সে তৃতীয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শীতুলের বাবা কামরুল হাসান পরপর দুইবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে পুরোপুরি কর্মক্ষমতা হারিয়ে শয্যাশায়ী। বাবার এই আকস্মিক অসুস্থতায় পরিবারটির ওপর নেমে আসে চরম আর্থিক সংকট। এ অবস্থায় অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সংসার চালাতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছেন মা হাসিনা বেগম।
তবে সংসারের এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও পড়ালেখা ছেড়ে দেয়নি শীতুল। উল্টো নিজের পড়াশোনার খরচ চালাতে সে বেছে নেয় টিউশনি। প্রতিকূলতার সাগরে সাঁতার কেটে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে অবশেষে অর্জন করে কাঙ্ক্ষিত জিপিএ-৫।
ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার বড় স্বপ্ন দেখে শীতুল। শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়াই নয়, একজন চিকিৎসক হিসেবে অসহায় ও দরিদ্র মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অঙ্গীকার তার। শীতুল জানায়, বাবার ব্যাধি ও কষ্ট তাকে জীবনের নির্মম বাস্তবতা খুব কাছ থেকে দেখিয়েছে। সেই উপলব্ধি থেকেই চিকিৎসক হয়ে বাবার মতো অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা পায় সে।
এসএসসিতে এই উজ্জ্বল সাফল্যের পরও শীতুলের মনে কাজ করছে নতুন এক অনিশ্চয়তা- উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি, বই-খাতা কেনা ও ভবিষ্যতের পড়ালেখার খরচ চালানো নিয়ে সে চিন্তিত। পরিবারের বর্তমান আর্থিক সক্ষমতায় এই ব্যয়ভার বহন করা প্রায় অসম্ভব।
শীতুলের পরিবার ও স্বজনদের আশা, কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি বা সংস্থা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে শীতুলের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথ অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে।