শাড়ি কেলেঙ্কারি মামলা

শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন তিশা

প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় মডেল-অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশাকে (তানজিন তিশা) আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন আদালত। বিশেষ বিবেচনায় বাদীর সঙ্গে আপসের শর্তে ৫০০ টাকার বন্ডের বিনিময়ে অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১০ নম্বর কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত তিশাকে জামিন দেন আজ ১৩ আগস্ট। তবে এই জামিন শুধু মামলার পরবর্তী তারিখ পর্যন্ত বহাল থাকবে। 

এ সম্পর্কে বাদীপক্ষের আইনজীবী সলিমুল্লাহ সরকার (বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট) গণমাধ্যমে বলেন, ‘তানজিন তিশা শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন। নারী এবং শাড়ির দাম কম থাকায় বিশেষ বিবেচনায় বাদীর সঙ্গে আপসের শর্তে ৫০০ টাকার বন্ডের বিনিময়ে আগামী ধার্য তারিখ পর্যন্ত এই জামিন দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিশার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রাথমিকভাবে ডিবির রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে। তিশা দেশের একজন সেলিব্রিটি। তাকে অসংখ্য মানুষ ফলো করেন। কিন্তু তার কাছে এ ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়াটা দুঃখজনক। তাই আশা করি আইনিভাবেই বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে।’ 

এর আগে ‘অ্যাপোনিয়া’ কর্তৃপক্ষের করা মামলায় গত ১২ জুলাই তিশাকে আদালতে হাজির থাকার জন্য সমন জারি করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১০ নম্বর কোর্টের ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত। ‘অ্যাপোনিয়া’ নামের একটি অনলাইন ফ্যাশন পেজ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি নিয়ে প্রমোশন, মূল্য পরিশোধ না করে একপর্যায়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্যই প্রতারণার অভিযোগ এনেছিলেন ফ্যাশন পেজটির কর্ণধার এক নারী উদ্যোক্তা। ওই নারী উদ্যোক্তার সঙ্গে তিশার ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ ও ভয়েস মেসেজে কথোপকথন পর্যালোচনা করে প্রতারণার সত্যতা পাওয়া গেছে, যা নিয়ে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে একই সংবাদ প্রকাশিত হয়। 

বিষয়টি নিয়ে তিশা তার ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে দাবি করেছিলেন, ওই শাড়িটি নাকি উপহার দিয়েছেন নারী উদ্যোক্তা। এরপর প্রতারণা, মানহানিকর কথা ও ছলচাতুরীর অভিযোগ এবং এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ দিয়েছিলেন ‘অ্যাপোনিয়া’ অনলাইন ফ্যাশন পেজের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলামের পক্ষে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সলিমুল্লাহ সরকার। গত ২২ অক্টোবর তানজিন তিশার বাসার ঠিকানায় ডাকযোগে এবং তিশার হোয়াটসঅ্যাপে আইনি নোটিশটি পাঠানো হয়। 

আইনি নোটিশে এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ওই নারী উদ্যোক্তাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যাচার করার জন্য ক্ষমা চাইতে বলা হয় তিশাকে। কিন্তু আইনি নোটিশে বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকায় গত ৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১৮ নম্বর কোর্টে ৪২০/৪০৬ ধারায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন অ্যাপোনিয়ার এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম। সিআর মামলা নম্বর ৯৬২/২০২৫। 

মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে আসামির প্রতি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ চাওয়া হলে ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত তিশার বিরুদ্ধে মামলাটি আমলে নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাকে (ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর মামলাটির তদন্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা (ডিবি) আদালতে রিপোর্ট প্রেরণ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন আদালত।