আদালত প্রাঙ্গণে যা বললেন তানজিন তিশা

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:২১ পিএম

শাড়ি কেলেঙ্কারি মামলায় আজ বৃহস্পতিবার আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা। ২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ি নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠাকে ‘দুঃখজনক’ উল্লেখ করে তিশা দাবি করেছেন, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রচারণার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটিও তিনি পালন করেছেন। 

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান তানজিন তিশা। কিছু সময় নিজের গাড়িতে অপেক্ষা করার পর তিনি আদালতের এজলাসে ওঠেন। তার আদালতে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়। সকাল ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত অভিনেত্রী তানজিন তিশার জামিন মঞ্জুর করেন। 

এরপর আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিশা। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেন। সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন তিনি। শুনানি শেষে তানজিন তিশা সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার বিরুদ্ধে ২৭ হাজার টাকার একটি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় তিনি ব্যথিত। 

তিনি দাবি করেন, তার ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ভাষ্য, মামলার বাদীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। তবে বিলকিস ওয়াজি ঝিনুক নামে একজন আইনজীবী নিজেকে তার ভক্ত হিসেবে পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানান তিনি। তিশার দাবি, সম্মানের খাতিরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই শাড়িটি পরে ছবি দেওয়ার কথা হয়েছিল। তিনি শাড়িটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্টোরিও দিয়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট পেজকে সেখানে উল্লেখ করেছিলেন। 

শাড়ির মূল্য পরিশোধের অভিযোগের বিষয়ে তানজিন তিশার অবস্থান আগের মতোই। তিনি দাবি করেন, শাড়িটি তিনি কিনেননি; বরং সংশ্লিষ্ট ফ্যাশন পেজের পক্ষ থেকে তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তিশার আইনজীবী মো. নিহার হোসেন ফারুক বলেন, শুরুতে তিশা শাড়িটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং দামও জানতে চেয়েছিলেন। পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষই তাকে শাড়িটি উপহার হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। 

বিনিময়ে অভিনেত্রী হিসেবে শাড়িটি পরে তাদের পেজের প্রচারণা করার অনুরোধ করা হয় বলে দাবি করেন আইনজীবী। তার ভাষ্য, তানজিন তিশা শাড়িটি পরে ছবি ও স্টোরি দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট পেজও উল্লেখ করেছেন। আইনজীবীর দাবি, প্রচারণার বিষয়ে তিশার পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত ছিল না। সময় ও সুযোগ অনুযায়ী তিনি আরও প্রচারণা করবেন বলে কথা হয়েছিল। কিন্তু এর আগেই মামলা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

 আদালত প্রাঙ্গণে তানজিন তিশা অভিযোগ করেন, তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনি নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছিল। এতে তাকে হ্যারাস করা এবং নেতিবাচক প্রচারণার চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলাসংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাদীপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। 

ডিবির তদন্তের বিষয়ে তিশা বলেন, তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন এবং নিজেই একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। আদালতের সমন পাওয়ার পরও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন সত্য শেষ পর্যন্ত সামনে আসবে এবং আদালতের মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত