শাবিপ্রবিতে নবীনদের সাড়ে চার ঘণ্টা আটকে রেখে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) চার নবীন শিক্ষার্থীকে র‍্যাগিংয়ের নামে সাড়ে চার ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। এ সময় তাদের আপত্তিকর ও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ অভিনয় করানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ছয় সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সৈয়দ মুজতবা আলী হল-সংলগ্ন ‘বড়গুল রিপন ছাত্রাবাসে’ গত সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতিত এক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

​ভুক্তভোগীরা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর জন্মদিনের কথা বলে তাদের ছাত্রাবাসে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর টানা সাড়ে চার ঘণ্টা চলে মানসিক নির্যাতন ও বিকৃত অভিনয় করানোর চেষ্টা।

​অভিযুক্ত ছয় সিনিয়র শিক্ষার্থী হলেন—বাংলা বিভাগের গোলজার (২০১৮-১৯), অর্থনীতি বিভাগের সোলাইমান (২০২০-২১), শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল (আইপিই) বিভাগের সাব্বির (২০২৩-২৪), পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের মারুফ ও আবু রায়হান (২০২৩-২৪) এবং পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তীব্র (২০২৪-২৫)।

​ঘটনার বিবরণ দিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, ​“এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর জন্মদিন উপলক্ষে আমাদের নিয়ে বসার কথা বলে ছয়জন সিনিয়র আমাদের র‍্যাগ দেয়। প্রথমে চারজনকে বিভিন্ন ধরনের নাচ করতে বাধ্য করা হয়। সে সময় কেউ ভুল করে হাসলে তাকে পা তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়। পরে বিভিন্ন ধরনের (দশ রকমের) কান্নার অভিনয় করানো হয়। একজনকে গামছার মাধ্যমে মেয়ে এবং আরেকজনকে ছেলে সাজিয়ে প্রপোজ করার অভিনয় করানো হয়। এরপর বিভিন্ন অশালীন ও প্রাপ্তবয়স্কদের কবিতা জোরে জোরে পড়তে বলা হয়। একজনকে আপত্তিকর শব্দ বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ করতে বাধ্য করা হয়।”

​নির্যাতনের অভিজ্ঞতা জানিয়ে আরেক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ​“আমাকে একটি চেয়ারের সামনে দাঁড় করিয়ে সেটিকে মেয়ে কল্পনা করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কবিতার তালে অভিনয় করতে বাধ্য করা হয়। আমি তখন খুবই ভেঙে পড়েছিলাম, কান্না চলে আসছিল। তবু তারা বারবার চাপ দিচ্ছিল অভিনয় করতে। ঘটনার পর থেকে আমি মানসিকভাবে অনেক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি এখনো সেই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারিনি।”

​যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত সোলাইমান কবির ফোন কেটে দেন। অভিযোগের কথা বলতেই কল কেটে দেন সাব্বিরও।

​তবে সেখানে থাকার কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত আবু রায়হান বলেন, ​“সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু যে অভিযোগগুলো আসছে, সেগুলো কিছু হয়েছে। তবে আমি এগুলো করিনি। এগুলো করেছেন আইপি বিভাগের সাব্বির।”

​আরেক অভিযুক্ত মারুফ বলেন, “আমদের নিজেদের ঘটনা নিজেরা সমাধান করে নিয়েছি।”

​বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক বেলাল হোসেন শিকদার বলেন, ​“এ বিষয়ে আজকে আমাদের কাছে অভিযোগ আসছে। আগামীকাল বিষয়টি নিয়ে বসে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”