বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন তিনি। বৈঠকে অংশ নেওয়া স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন।

এদিকে মির্জা ফখরুল পদত্যাগের পর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান কাউকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেননি। তবে স্থায়ী কমিটির ওই সদস্য জানান, মহাসচিব না থাকলে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অতীতে মির্জা ফখরুল ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে তার ভারমুক্ত করা হয়। আগামী কাউন্সিলে দলের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন করা হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিজভী আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চেয়ারম্যান এখনো কাউকে দায়িত্ব দেননি। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরে তিনি কাউকে নিশ্চয়ই দায়িত্ব দেবেন।’ এর আগে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য

পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১ >

 

বিএনপির

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী

 

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বেরিয়ে রিজভী বলেন, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরপর দলের নিয়ম ও ঐতিহ্য রক্ষা করে মহাসচিব পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন মির্জা ফখরুল। মনোনয়ন ঘোষণার পরপরই মির্জা ফখরুলের পক্ষে নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়।

গত ২৪ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির ৫ম জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে নির্বাচিত হন। এই পদটিতে এর আগে তারেক রহমান বহাল ছিলেন। তারেক রহমান এই সম্মেলনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান হয়। ২০১১ সালের ২০ মার্চ বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া মির্জা ফখরুলকে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করেন। ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দলের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন নেতা এই মনোনয়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। কেউ কেউ বলেন বিএনপির গঠনতন্ত্রে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কোনো বর্ণনা নেই। কিন্তু খালেদা জিয়া ২১ মার্চ ২০১১ তারিখে সৌদি রাজপরিবারের আমন্ত্রণে সৌদি আরব যাওয়ার আগমুহূর্তে মির্জা ফখরুলকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা করে গেলে এই সংক্রান্ত বিভ্রান্তির অবসান ঘটে। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুল মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন।

বিরোধী দলে থাকাকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকালে মির্জা ফখরুল বিভিন্ন ইস্যুতে আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। এ ছাড়া দেশব্যাপী বিএনপির একাধিক বিক্ষোভ ও আন্দোলন কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন, যেগুলোর অধিকাংশই ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবি।